রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ধান বিক্রি করতে গিয়ে কৃষকের মাথায় হাত

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১২:৩৮ এএম

বিক্রির জন্য প্রতিদিন শত শত ধানের বস্তা নিয়ে কৃষক এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা বড় ধান ব্যবসায়ীদের আড়তে নিয়ে আসছেন। কিন্তু ধানের দাম কম হওয়ায় বেচাকেনায় অচলাবস্থা চলছে। বড় ব্যবসায়ীরা হাজার হাজার ধানের বস্তা নিয়ে কী করবেন কিছুই বুঝে উঠতে পারছেন না। দিন দিন ধানের দাম শুধু কমছেই। তাই ধান নিয়ে কৃষকেরও মাথায় হাত। বিপাকে পড়েছেন ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় ব্যবসায়ীরা। নোয়াখালীর হাতিয়া উপকূলীয় বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে জানা গেছে এ অচলাবস্থা।

হাতিয়ার তমরদ্দি বাজারের ধান ব্যবসায়ী মফিজ উদ্দিন জুয়েল, মো. রাসেল ও হাজি রশিদের ভাষ্য মতে, দোকানঘরে, গুদামে কোথাও জায়গা নেই। ধান নিয়ে বিপদে আছে উপকূলবাসী। তাই শত শত ধানের বস্তা বাজারের গলিতে, দোকানঘরের পাশে ও বাজারঘাটে ফেলে রাখা হয়েছে। আবার ধানের দাম কম হওয়ায় কেনাবেচা হচ্ছে বাকিতে।

ধান ব্যবসায়ীরা জানান, বিক্রির জন্য তমরদ্দি থেকে হাজার হাজার বস্তা ধান নৌপথে চাঁদপুর, চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীর সোনাপুর পাঠানো হয়। চার দিন আগে তমরদ্দি বাজারঘাট থেকে ব্যবসায়ীদের ২ হাজার ৩০০ বস্তা ধান চাঁদপুরে পাঠানো হয়। কিন্তু মোকামে ধান পৌঁছার পর দাম পাওয়া গেছে অর্ধেক ধানের। পরদিন পাঠানো হলো ১ হাজার ৮০০ বস্তা, সেদিনও দাম পাওয়া যায় অর্ধেক ধানের।

সেখান থেকে বিক্রেতাদের কিছু কিছু মূল্য পরিশোধ করা হয়। এভাবেই চলছে এক মাস ধরে। গতকাল সোমবার তমরদ্দি ইউনিয়নের দক্ষিণ বেজুগালিয়া গ্রামের কৃষক নূর মোহাম্মদ বিক্রির জন্য ৭০ মণ ধান নিয়ে তমরদ্দি বাজারের ধান ব্যবসায়ী মফিজ উদ্দিন জুয়েলের দোকানে আসেন। এক মণ ধানের দাম ৫৪০ টাকার বেশি বলছেন না দোকানি।

কৃষক নূর মোহাম্মদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, এক মণ ধানের উৎপাদন খরচ ৬৫০ টাকারও বেশি পড়েছে। বিক্রির জন্য মোকামে আনতে মণপ্রতি ভাড়া দিতে হয়েছে ২০ টাকা। কিন্তু মণপ্রতি ধান বিক্রি করতে হচ্ছে ৫৪০ টাকায়। নূর মোহাম্মদ আরও বলেন, ধারদেনা করে জমি চাষ করেছি। এখন দেনা পরিশোধ এবং সাংসারিক প্রয়োজনে ধান বিক্রি না করে উপায় নেই। এক মণ ধানে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা গচ্চা দিতে হচ্ছে। ধানের দাম কম আবার বিক্রি করতে হচ্ছে বাকিতে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত