সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

মিত্রকে দেওয়া অস্ত্র শত্রুর কাছে

যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসা রূপান্তর ডেস্ক

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১২:৩৪ এএম

ইয়েমেন যুদ্ধে সৌদি আরবের কাছে প্রকাশ্যে ও গোপনে অস্ত্র বিক্রি করছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু সেই অস্ত্রই আবার সৌদির হাত ধরে আল-কায়েদা-সমর্থিত যোদ্ধা, কট্টরপন্থি সালাফি মিলিশিয়া এবং অন্যান্য গোষ্ঠীর হাতে যাচ্ছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের মিডিয়া সিএনএনের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বিষয়টি উঠে আসে।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত বিদ্রোহী গোষ্ঠীর কাছে নিয়মিত যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক অস্ত্র যাচ্ছে বিভিন্ন মাধ্যমে। এমনকি তেহরানেও যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন অস্ত্র দেখা গেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাদের হুমকির মুখে ফেলছে।

এই যুদ্ধের অন্যতম অংশীদার সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত। যুদ্ধে তারা যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত অস্ত্র ব্যবহার করছে। আর এই অস্ত্র গোটা অঞ্চলের জটিল রাজনৈতিক দৃশ্যপটে প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন স্থানীয় কমান্ডাররা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতে, তৃতীয় পক্ষের কাছে অস্ত্র হস্তান্তরের মাধ্যমে সৌদি জোট যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অস্ত্র কেনার নীতিমালা ভঙ্গ করছে। বিষয়টি নিয়ে ওয়াশিংটন তদন্ত করছে বলে জানা যায়।

সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে মিত্রদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র কি তার নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছেÑ এমন প্রশ্ন সামনে চলে এসেছে এখন। এর আগে সিএনএনের আরেক রিপোর্টে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেনা অস্ত্র সৌদি জোট ইয়েমেনের সাধারণ জনগণকে হত্যা করতে ব্যবহার করছে, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিশু রয়েছে। তুরস্কের সৌদি কনস্যুলেটে সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডের পর সৌদি আরবের কাছে অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি প্রশ্নের সম্মুখীন হয়। তখন জার্মানিসহ বেশ কয়েকটি দেশ সৌদির কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দেয়।

২০১৫ সালে রিয়াদ ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে শুরু করে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দেশটিতে বন্দুক ছাড়াও অ্যান্টি ট্যাংক মিসাইল, সাঁজোয়া যান, লেজার ও আর্টিলারিও দেখা যায়। অনেকটা বন্যার পানির মতো ইয়েমেনে অস্ত্র ঢুকছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়। কিছু সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হামলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র হাতিয়ে নেয়। এ ছাড়া সৌদি বাহিনীকে যোদ্ধা সরবরাহের বিনিময়েও অনেক গোষ্ঠী বিপুল পরিমাণ অস্ত্র নিয়েছে। এই গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে যেমন আল-কায়েদা সমর্থিত দল আছে, তেমনি আছে ইরান-সমর্থিত কিছু উপদল। অনেক জায়গায় এমনও দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রে অস্ত্র পেয়ে মিত্রদের মধ্যেই সাংঘর্ষিক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইয়েমেনের তাইজ শহরের রাস্তায় প্রকাশ্যে খোলা হয়েছে অনেক অস্ত্রের দোকান, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রি হচ্ছে। এমনও কিছু দোকান দেখতে পাওয়া যায়, যে দোকানের এক পাশে মেয়েদের পোশাক ঝোলানো, আরেক পাশে একে-৪৭। আর তাই, তাইজ শহরকে আল-কায়েদা তাদের আরব উপদ্বীপে প্রবেশের রাস্তা হিসেবে ব্যবহার করছে। এ ক্ষেত্রে তাদের সঙ্গে আছে সৌদিপন্থি কিছু মিলিশিয়া গ্রুপ। এদের মধ্যে একটি দল আবু আব্বাস ব্রিগেড। ২০১৫ সালে তারা তাইজ শহরে যুক্তরাষ্ট্র-নির্মিত অসকোশ সাঁজোয়া যান নিয়ে প্যারেড করে। ২০১৭ সালে এই ব্রিগেডকে যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করে। কিন্তু এখনো সংগঠনটি নিয়মিত সৌদি আরবের সহায়তা পেয়ে আসছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত