দুই হাতের কব্জি নেই। নেই ডান পায়ের হাঁটুর নিচের অংশ। শারীরিক এসব প্রতিকূলতা সাকিবকে দমাতে পারেনি। সব বাধা পেরিয়ে একজন আদর্শ সাংবাদিক হতে চায় সে। অদম্য মানসিক শক্তির জোরে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জয় করা এ কিশোর দিনাজপুরের পার্বতীপুরে মন্মথপুর কো-অপারেটিভ হাই স্কুলের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে।গত বৃহস্পতিবার পরীক্ষাকেন্দ্র যশাই উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, কব্জিবিহীন দুই হাতের মাঝখানে কলম চেপে ধরে প্রশ্নের উত্তর লিখে চলেছে নাজমুস সাকিব। দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার মমিনপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর সরদারপাড়া গ্রামের আজিমউদ্দিন ও হোসনে আরা দম্পতির সন্তান সাকিব। তার বাবা একজন প্রান্তিক চাষি। সাকিবরা তিন ভাই। সে সবার ছোট। বড় ভাই রোকনুজ্জামান হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত। আরেক ভাই আখেরুজ্জামান দিনাজপুর সরকারি পলিটেকনিক্যাল কলেজের শেষ বর্ষের ছাত্র। গতকাল শুক্রবার দুপুরে নাজমুস সাকিবের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। সাকিব জানায়, এসএসসিতে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পরীক্ষা দিলেও আগামীতে সে মানবিক বিভাগে পড়তে চায়। সাংবাদিকতায় উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে একজন আদর্শ সাংবাদিক হওয়ার স্বপ্ন তার।সাকিবের বাবা আজিমউদ্দিন বলেন, ‘আমার এ ছেলেকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম। পাঁচ বছর বয়সে সে হাঁটা শেখে। তাকে প্রথমে স্থানীয় ব্র্যাক স্কুলে ভর্তি করা হয়। পরে মন্মথপুর কো-অপারেটিভ উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি করাই। স্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা কাম টু ওয়ার্কের আর্থিক সহায়তায় পড়াশোনা করছে সাকিব।’ ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুর রশিদ বলেন, নাজমুস সাকিব জেএসসিতে ভালো ফল করেছে। আশা করছি এসএসসিতেও সে ভালো করবে।
×
