বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বিএসএফএমএসটিইউ

আইনি প্যাঁচে কলেজ শিক্ষার্থীদের আত্তীকরণ

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৩:১৪ এএম

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ফিশারিজ কলেজকে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএফএমএসটিইউ) রূপ দিতে ২০১৬ সালে নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সে নির্দেশের পর মেলান্দহে বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে। কিন্তু কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত নয়; করা হয়েছে স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয়। নতুন প্রতিষ্ঠানে কলেজের শিক্ষার্থীদের আত্তীকরণও করা হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষের দাবি, আইনের কারণে সম্ভব হচ্ছে না আত্তীকরণ।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কলেজের প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী ও ১৬ শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তর্ভুক্ত হতে পারেননি। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন প্রত্যাখ্যান করেছেন আইন প্রণয়নকারীরা।কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০০০ সালে মেলান্দহে কার্যক্রম শুরু করে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ফিশারিজ কলেজ। শুরু থেকেই কলেজটি ময়মনসিংহে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) অধিভুক্ত। শিক্ষার্থীদের শ্রেণি কার্যক্রম কলেজটিতে হলেও বাকৃবি কর্র্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের কারণে কলেজ থেকে ৭৫ কিলোমিটার দূরে বাকৃবিতে গিয়ে সব ধরনের পরীক্ষায় অংশ নিতে হয় শিক্ষার্থীদের। দীর্ঘদিন এভাবে চলতে থাকার পর প্রধানমন্ত্রীর এক অনুশাসনের মাধ্যমে ২০১৭ সালের নভেম্বরে সংসদে বিশ্ববিদ্যালয়টির আইন পাস হয়। এরপর নানা জটিলতায় উপাচার্য নিয়োগ আটকে গেলে এই শিক্ষার্থীরাই রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে একাধিকবার মানববন্ধনের আয়োজন করে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বারবার স্মারকলিপিও দেন শিক্ষার্থীরা। এরপর গত বছরের ১৪ নভেম্বর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ শামসুদ্দিন আহমেদ বিশ্ববিদ্যালয়টিতে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান। কিন্তু উপাচার্য নিয়োগ পেয়েই শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের বিশ্ববিদ্যালয়ে আত্তীকরণ সম্ভব নয় বলে স্রেফ জানিয়ে দেন। তাদেরকে বাদ দিয়ে এ বছর শুরু হয়েছে ভর্তি কার্যক্রম। এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক সৈয়দ শামসুদ্দিন আহমেদের কাছে জানতে চাইলে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিষয়টি সত্যিই মানবিক। আমার কাছেও কিছু কাগজপত্র এসেছে। সেখানে এই কলেজকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতির কথা উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু আইনে তার প্রতিফলন নেই।আইনে বলা হয়েছে, এটি একটি স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয়।  আইনের কোথাও কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করা হয়েছে, এটা বলা নেই। আর আইনের কারণেই বর্তমান শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিতে পারছি না।’

তিনি বলেন, “আমি এই বিষয়টি নিয়ে ইউজিসি, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে কথা বলেছি। কিন্তু তারা কেউ এ বিষয়ে সমাধান দেননি। শুধু এতটুকুই বলেছেন, ‘আপনি আপনার কাজ করুন।’ তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কেউ কেউ এর সমাধান নিয়ে ভাবছেন।”

এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ইউজিসি ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষ বলছে, আইন অনুযায়ী এসব শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের বিশ্ববিদ্যালয়ে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যদি নিতেই হয়, তাহলে আইন সংশোধন করতে হবে, যা এতটা সহজ বিষয় নয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক আবুল কালাম শামসুদ্দিন স্বাক্ষরিত ২০১৬ সালের ২৬ এপ্রিল ও ২৫ মে দুটি চিঠিতে বলা হয়, জামালপুরে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ফিশারিজ কলেজকে ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে রূপান্তর করে একটি বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে প্রধানমন্ত্রী নীতিগত সম্মতি জানিয়েছেন। চিঠিতে এ বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর ইউজিসি থেকে প্রথম খসড়া আইন প্রণয়নের পর তা যাচাই-বাছাই শেষে একই বছরের ২০ নভেম্বর ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে বিল পাস হয় সংসদে। অথচ আইনে বাদ পড়ে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ফিশারিজ কলেজ।ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শাখার পরিচালক কামাল হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। কিন্তু এখন কিছু করার নেই। আইনে যা বলা আছে সেভাবেই বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হবে।’

আইনের প্রথম খসড়া ইউজিসি প্রণয়ন করে। এরপরও কেন এমন হলো, সে সম্পর্কে তিনি অবগত নন বলে জানান। তিনি আরও বলেন, আইনে কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের কথাটা যদি থাকত, তাহলে কলেজের বর্তমান শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা ও সনদ পেত।উপাচার্য জানান, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ৫০০ একর জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ভর্তি কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।এদিকে শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি আদায়ে আজ রবিবার উচ্চ আদালতে রিট করবেন বলে জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়–য়া বলেন, ‘ডকুমেন্টে যা আছে, তাতে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে আত্তীকরণের সুযোগ আছে। তবে আইনটি সংশোধন করতে হবে। রিট করলে উচ্চ আদালত হয়তো দ্রুত আইনটি সংশোধনের নির্দেশ দিতে পারে।’

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত