সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডে কোটা তুলে দিতে বিল

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০২:৫২ এএম

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের ক্ষেত্রে দেশভিত্তিক কোটা সুবিধা উঠিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব তোলা হয়েছে দেশটির কংগ্রেসে। আর এই প্রস্তাবেকে পেছন থেকে সিলিকন ভ্যালির শীর্ষ কোম্পানিগুলো সমর্থন দিচ্ছে বলে জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রস্তাবটি কংগ্রেসের অনুমোদন সাপেক্ষে আইনে পরিণত হলে ভারত ও চীনের মতো জনবহুল দেশের উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন অভিবাসীদের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড পাওয়া সহজ হয়ে দাঁড়াবে। তখন কোটার কারণে তাদের কোনো অভিবাসী স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার ক্ষেত্রে বঞ্চিত হবেন না।

প্রস্তাবটিতে কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিক দুই দলের সদস্যরাই সমর্থন দেন। সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ উভয় কক্ষেই একই ধরনের দুটি বিল প্রস্তাবিত হয়েছে। রিপাবলিকান সিনেটর মাইক লি এবং ডেমোক্র্যাট সিনেটর ও আগামী নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কমলা হ্যারিস স্থানীয় সময় গত বুধবার সিনেটে (উচ্চকক্ষ) ‘ফেয়ারনেস ফর হাইস্কিলড ইমিগ্রান্টস অ্যাক্ট’ নামে এই বিল প্রস্তাব করেন।

এর আগে হাই-স্কিলড ইমিগ্রেশনস অ্যাক্ট (এইচআর ১০৪৪) নামে একই ধরনের আরেকটি বিল উত্থাপিত হয় প্রতিনিধি পরিষদে (নিম্নকক্ষ)। ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য জো লফগ্রেন এবং অভিবাসন ও নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত হাউস বিচার বিভাগীয় উপকমিটির সভাপতি ও রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য কেন বাক এই প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

উত্থাপিত বিলটিকে আইনে পরিণত করতে মাইক্রোসফট, গুগল, আইবিএমসহ টেকজায়ান্ট কোম্পানিগুলো ছাড়াও ইমিগ্রেশন ভয়েস, কমপিট আমেরিকা কোয়ালিশন, ইমিগ্রেশন টেকনোলজি ইন্ডাস্ট্রি কাউন্সিল, মার্কিন চেম্বার অব কমার্স, ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব ম্যানুফ্যাকচারার্স, হেরিটেজ ফাউন্ডেশনসহ অনেকে লবিং করছে।

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, গ্রিন কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে কোটা সুবিধা উঠিয়ে দিলে অনেক দেশকেই নেতিবাচক অভিজ্ঞতার শিকার হতে হবে। পাশাপাশি তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে ওই দেশগুলোর দক্ষ শ্রমিকদের জায়গা করে নিতে হবে যুক্তরাষ্ট্রে। আগে এলে আগে পাবেন ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেওয়া হবে তখন।

দেশটিতে চাকরিরত এইচ-১বি ভিসাধারীদের ক্ষেত্রে প্রতিবছর ১ লাখ ৪০ জনকে গ্রিন কার্ড দেওয়া হয়। বর্তমান আইনে এক দেশের সর্বোচ্চ ৭ শতাংশের বেশি অভিবাসীকে গ্রিন কার্ডের অনুমোদন দেওয়া হয় না। সেই হিসেবে এক দেশের সর্বোচ্চ ৯ হাজার ৮০০ জন গ্রিন কার্ড সুবিধা পেয়ে থাকেন। নতুন আইনে গ্রিন কার্ড অনুমোদনের মোট সংখ্যা বাড়ানো হবে না।

সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কমলা হ্যারিস বলেন, ‘আমরা অভিবাসীর জাতি। বৈচিত্র্য এবং ঐক্যের মধ্য দিয়ে সবসময় আমাদের শক্তিমত্তা নিহিত হয়েছে। আমাদের অবশ্যই বৈষম্য দূরীকরণে ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন অভিবাসীরা ভারসাম্যহীন অবস্থায় না পড়ে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ করতে পারে।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত