সেমিনারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী

রোহিঙ্গা সংকট বাড়লে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হতে পারে

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৩:২০ এএম

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘায়িত হলে তা উগ্রবাদকে উৎসাহিত করতে পারে, যা গোটা অঞ্চলে অনিশ্চয়তা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে পারে। তা শুধু মিয়ানমার ও বাংলাদেশের জন্যই নয়, বরং পুরো অঞ্চলে অনিশ্চয়তা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে পারে।

গতকাল রবিবার রাজধানীতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশে জাতিসংঘ কার্যালয় যৌথভাবে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ও মানবাধিকার’ শীর্ষক এক সেমিনারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

ড. মোমেন বলেন, রোহিঙ্গাদের অবশ্যই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তাদের নিজেদের দেশে ফিরে যেতে হবে। জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের দৃষ্টিতে রোহিঙ্গা নিধন হচ্ছে মিয়ানমারে ‘নৃতাত্ত্বিক নির্মূল অভিযান-এর ক্লাসিক্যাল উদাহরণ’ এবং অন্যদের দৃষ্টিতে এটা ‘গণহত্যা’। জঘন্যতম এই মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় তৎপরতা কামনা করে বলেন, বাংলাদেশে নয়, এই সংকটটিকে তার উৎস মূলে  (মিয়ানমার) সমাধান করার জন্য বিশ্ব নেতৃত্বকে এগিয়ে আসতে হবে।

ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেন, রাষ্ট্রবিহীন রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী শত শত বছর যাবৎ মিয়ানমারে বসবাস করে আসছে এবং রাষ্ট্র হিসেবে মিয়ানমার তার নিজের জনগণের জন্য বাধ্যবাধকতা ও দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হচ্ছে।

ড. মোমেন বলেন, মিয়ানমারের প্রায় ১২ লাখ বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা বাসিন্দা বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে অবস্থান করছে। যত শিগগির সম্ভব তাদের নিরাপদে প্রত্যাবর্তন করানো প্রয়োজন। মিয়ানমার এই সংকটের সৃষ্টি করেছে এবং এটা সমাধান করা তাদেরই দায়িত্ব। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের নির্যাতিত জনগণকে আশ্রয় দিয়ে বিশ্ব নেতাদের বদনাম ও কলঙ্ক থেকে রক্ষা করেছেন। সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি মিয়া সেপ্পো।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত