সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

আইপিও বেশি দিলেই অভিযোগ আসে : বিএসইসি চেয়ারম্যান

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১১:৪৯ পিএম

পুঁজিবাজারে লেনদেনের পরিমাণ কম থাকায় প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে বেশি কোম্পানিকে অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া যাচ্ছে না। যদিও বাজারে আইপিওর চাহিদা রয়েছে। আবার আইপিও পরবর্তী সময়ে কোম্পানির আর্থিক স্বাস্থ্য খারাপ হয়ে পড়লেও সমালোচনার মধ্যে পড়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। গতকাল রাজধানীতে আয়োজিত এক সেমিনারে এ সব কথা বলেন বিএসইসির চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন।

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) ও অনলাইন বিজনেস পোর্টাল বিজনেস আওয়ার টোয়েন্টি ফোর ডটকম আয়োজিত ‘দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নে শেয়ারবাজারের গুরুত্ব’ শীর্ষক এক সেমিনারে বিএসইসি চেয়ারম্যান ছাড়াও বক্তব্য রাখেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও বিএসইসির চেয়ারম্যান এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম, বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী, ডিবিএ সভাপতি শাকিল রিজভী প্রমুখ। 

সেমিনারে বিএসইসি চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন বলেন, শর্ত পরিপালন হলে দ্রুত প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) অনুমোদন দেওয়া হবে। এর আগে দ্রুত শর্ত পরিপালন করায় এক-দেড় মাসের মধ্যে আইপিওর  অনুমোদন দেওয়ার নজির রয়েছে। আবার শর্ত পরিপালনে ব্যর্থতার কারণে কোনো কোনো কোম্পানির আইপিও বাতিলও করা হয়েছে।

খায়রুল বলেন, এখনো প্রত্যেকটি কোম্পানির আইপিওতে কয়েকগুণ আবেদন জমা পড়ে। বড় ধরনের চাহিদার পরও আইপিওর সংখ্যা বাড়াতে গেলে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। পুঁজিবাজারে লেনদেনের পরিমাণ কম থাকায় আইপিও বেশি দিতে গেলেই নানা জায়গা থেকে অভিযোগ আসে। আইপিও কম অনুমোদন দেওয়ার এটি একটি কারণ। সুযোগ থাকলেও ২০১৭ সালে তুলনামূলক কম আইপিও অনুমোদন দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির পরে কোনো কোম্পানি খারাপ করলেই নানা ধরনের সমালোচনা করা হয়। অথচ এসব কোম্পানি আইন পরিপালন করে বলেই তাদের আইপিওর মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের অনুমোদন দেওয়া হয়।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, পুঁজিবাজারের স্বার্থে ভালো ভালো  কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত করতে হবে। এক্ষেত্রে যোগ্যতা অনুযায়ী প্রিমিয়াম দিতেই হবে। এ নিয়ে সমালোচনার সুযোগ  নেই।

মির্জ্জা আজিজ বলেন, মালয়েশিয়ার পুঁজিবাজারে ৪০ শতাংশ সরকারি কোম্পানির দখলে। অথচ আমাদের এখানে সরকারি মালিকানাধীন কম সংখ্যক কোম্পানিই পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। ২০১০ সালে সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সময় পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করার মতো ২৬টি সরকারি কোম্পানি নির্বাচন করা হলেও একটি কোম্পানিকেও পুঁজিবাজারে আনা যায়নি। বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে যোগ্যতা অনুযায়ী অনেক কোম্পানির যথার্থ দর নির্ধারণ হচ্ছে না বলে বিএসইসির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, পুঁজিবাজার থেকে উত্তোলন করার পর কোম্পানিকে তা পরিশোধ করতে হচ্ছে না। এটা বড় সুবিধা। আর ব্যাংক থেকে ঋণ নিলে সুদের সঙ্গে মূলধনও পরিশোধ করতে হচ্ছে। কিন্তু  শেয়ারবাজার থেকে অর্থ উত্তোলন করলে বছর শেষে কোম্পানির মুনাফা থেকে লভ্যাংশ দিলেই হচ্ছে।

অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে ডিবিএ সভাপতি শাকিল রিজভী বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য ভালো কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত করতে হবে। এজন্য বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা কোম্পানিগুলোকে দিতে হবে। ভালো কোম্পানি নির্বাচন করে তাদের জন্য আলাদা পরিকল্পনা করতে হবে। তাহলে বাজার শক্তিশালী হবে ও বিনিয়োগকারীরা উপকৃত হবেন। এর মাধ্যমেই দেশের জন্য একটি শক্তিশালী পুঁজিবাজার গঠন করা সম্ভব।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত