বিচারপতিকে প্রটোকল না দেওয়া

আদালত অবমাননার অভিযোগে সাবেক জেলা জজের দণ্ড

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৮:৩০ পিএম

হাইকোর্টের একজন বিচারপতিকে (বর্তমানে অবসরে) প্রটোকল না দেওয়ায় আদালত অবমাননার অভিযোগে ফেনী জেলার সাবেক জেলা ও দায়রা জজ মো. ফিরোজ আলমকে দোষী সাব্যস্ত করে পাঁচ হাজার টাকা অর্থ দণ্ড- দিয়েছে হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ। জরিমানার এই অর্থ ১৫ দিনের মধ্যে পরিশোধ না করলে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড- ভোগ করতে হবে বর্তমানে অবসরে থাকা এই বিচারিক কর্মকর্তাকে।

বুধবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ সংক্রান্তে রুল নিষ্পত্তি করে এ দণ্ড- দেন।

মামলার অন্য দুই বিবাদী ফেনী জেলা জজ আদালতের দুই কর্মচারী ইয়ার আহমেদ ও আলতাফ হোসেনকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশের যে কোন স্থানে সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের ভ্রমণ ও পরিদর্শনের সময় তাদের প্রটোকলের বিষয়ে স্থানীয় বিচারিক কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে চার দফা নির্দেশনাও দিয়েছেন হাইকোর্ট।

আদালতে ফিরোজ আলমের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী ফয়সাল এইচ  খান ও মইন উদ্দিন টিপু। মামলার অন্য দুই বিবাদীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এ এম আমিন উদ্দিন ও মিনহাজুল হক চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল রাফি আহমেদ।

২০০৩ সালে ফেনী জেলায় কর্মরত ছিলেন ফিরোজ আলম। ওই বছরের অক্টোবরে হাইকোর্টের তখনকার বিচারপতি সৈয়দ আমিরুল ইসলাম ফেনী সফরে যান। তার সফরসূচি বিষয়ে আগে জেলা জজ আদালতকে অবহিত করা হলেও সেখানে পৌঁছে তিনি কোন প্রটোকল পাননি। পরবর্তীতে ২৯ অক্টোবর ফিরোজ আলমসহ ওই তিনজনে বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি হয়।

ওই বছরের ১২ নভেম্বর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে হাজির হয়ে মৌখিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন ফিরোজ আলমসহ তিনজন। আদালত তাদের লিখিতভাবে ক্ষমা প্রার্থনার আদেশ দিয়ে ১৭ নভেম্বর পরবর্তী আদেশের জন্য রাখেন। এরই মধ্যে ফিরোজ আলম এ বিষয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করলে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে।

এরপর ২০১১ সালের ৩১ জানুয়ারি ফিরোজ আলমের আবেদনটি খারিজ করে রুল শুনানি ও তা নিষ্পত্তির আদেশ দেয় আপিল বিভাগ। এরই ধারাবাহিকতায় বিষয়টি হাইকোর্টের এই বেঞ্চে শুনানির জন্য আসে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত