রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪, ৮ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

চীনের এক সন্তান নীতির চড়ামূল্য

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১০:৫২ পিএম

এশিয়া ও আফ্রিকার অনেক দেশকে ঋণের ফাঁদে ফেললেও চীনের আভ্যন্তরীণ অর্থনীতির অবস্থা অতটা সুবিধাজনক নয়। দেশটির কয়েক মিলিয়ন মধ্যবিত্ত পরিবার ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির নীতির কারণে চড়ামূল্য দিতে বাধ্য হচ্ছে। এক সন্তান নীতির নেতিবাচক প্রভাব আজ চীনের অনেক অঞ্চলে জন্মহার আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে।

তিন বছর আগে চীন এক সন্তান নীতি থেকে সরে আসে। কিন্তু নীতি থেকে সরলেও কাজ হয়নি। ২০১৮ সালে দেশটিতে ১৫ দশমিক ২৩ মিলিয়ন শিশু জন্মায়, যা ২০১৭ সালের তুলনায় ২ মিলিয়ন কম। চীনের ৫০ শতাংশ পরিবারেরই ইচ্ছে নেই দ্বিতীয় সন্তান নেওয়ার। কারণ একের অধিক সন্তান নিতে যে অর্থনৈতিক সক্ষমতা দরকার হয় তা তাদের নেই।

আর এই সমস্যা কমিউনিস্ট পার্টির মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ বৈশ্বিক অর্থনীতির লড়াইয়ে চীনকে টিকতে গেলে অধিক জনশক্তি খাটাতে হবে। ২০১৭ সালের পরিসংখ্যান অনুসারে, দেশটিতে ৬০ বছর বয়সের বেশি মানুষের সংখ্যা ২৪০ মিলিয়ন, যা মোট জনসংখ্যার ১৭ শতাংশ। চীনের বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০৫০ সাল নাগাদ দেশটির মানুষ ধনী হওয়ার আগেই বৃদ্ধদের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাবে, যা শ্রমমুখী জনশক্তিকে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে।

জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে চীনে। অনেক চীনাই তাদের সন্তানের জন্য ভালো দুধ কিনতে পারেন না। ২০০৮ সালে চীনের স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদিত দুধ খেয়ে অন্তত ছয়জন শিশু মারা যায় এবং অনেক শিশুর কিডনিতে পাথর ও মূত্রনালিসংক্রান্ত সমস্যায় ভোগে। শিক্ষা এবং বিনোদন খাতের ব্যয়ও অনেক চীনে। ১৯৯০ সাল পর্যন্ত দেশটির অধিকাংশ মানুষ সরকারি অর্থায়নে পড়ালেখা করত, যা প্রায় বিনা মূল্যে ছিল। কিন্তু এখন চীনে শিক্ষা খাত অনেক বড় ব্যবসাক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।

প্রতিযোগিতাপূর্ণ সমাজব্যবস্থায় চীনা দম্পতিরা তাদের সন্তানদের শিক্ষা নিয়ে উদ্বিগ্ন বলে জানান হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মাহোংলাই। তার মতে, এক সন্তান নীতির কারণে দম্পতিরা তাদের সন্তানদের শিক্ষার পেছনে বেশি ব্যয় করতে পারত। কিন্তু বর্তমানে সেই তুলনায় অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো না হওয়ায় বেশি সন্তান নেওয়ার ইচ্ছে থাকলেও নিতে পারছে না দম্পতিরা।

আগের তুলনায় চীনে চিকিৎসা খাতে ব্যয় বেড়েছে কয়েক গুণ। সরকার চিকিৎসা খাতে কিছুটা ভর্তুকি দিলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় সামান্য। কোনো জটিল রোগে আক্রান্ত হলে জনগণকে বেসরকারি ক্লিনিকের দ্বারস্থ হতে হয়, যা অনেক ব্যয়বহুল। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চীনা এক দম্পতির তাদের এক সন্তানের পেছনে মাসে ২ হাজার ২০০ ডলার ব্যয় হয় চিকিৎসা বাবদ। সূত্র: সিএনএন

হাবেই প্রদেশে দ্বিতীয় সন্তান নিতে ইচ্ছুক দম্পতিদের জন্মদানপ্রক্রিয়া বিনা মূল্যে করা হয়। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চীন হয়তো সন্তান নেওয়ার ব্যাপারে আর কোনো সীমা রাখবে না। কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, চীন এমন এক সময় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে যখন অনেক দেরি হয়ে গেছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত