শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

যত্রতত্র বালু উত্তোলন হুমকিতে গড়াই সেতু

আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১২:২৮ এএম

ফরিদপুর ও মাগুরা জেলার সীমানায় মধুমতী নদী থেকে যত্রতত্র বালু উত্তোলনের ফলে হুমকির মুখে পড়েছে গড়াই সেতুসহ নদীতীরবর্তী এলাকা ও সড়ক। সরকারি বালুমহালের নির্ধারিত সীমানার বাইরে গিয়ে গড়াই সেতুর পিলারের অদূরে এস্কেভেটর লাগিয়ে বালু তোলা হচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কামারখালী ইউনিয়নের মচলন্দপুর বালুমহাল এবং ডুমাইন ইউনিয়নের ডুমাইন বালুমহাল ঘুরে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগের সঙ্গে খুলনা বিভাগের অন্যতম সংযোগ গড়াই সেতুর পিলার খুব কাছ থেকে বালু উত্তোলন হচ্ছে। মধুমতী নদীর উজান ও ভাটিতে উভয় পাড় থেকেই দিনরাত বিরতিহীন বালু কেটে নেওয়া হচ্ছে। দুই জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় বালুমহালের নির্ধারিত এলাকা ছাড়িয়ে অনেক বাইরে গিয়ে মাগুরার মোহাম্মদপুর উপজেলার নাকোল ইউনিয়নের রাজধরপুর গ্রামের সীমানায় ঢুকে পড়েছে বালু তোলার মেশিন। ফলে রাজধরপুরে মধুমতীর তীরে অবস্থিত ৪৮ কেভি বিদ্যুৎ সঞ্চালন টাওয়ার, যা মাগুরার সঙ্গে জাতীয় গ্রিডে ফরিদপুরকে সংযুক্ত করেছে, সেটি হুমকির মুখে পড়েছে। অন্যদিকে মচলন্দপুর বালুমহাল থেকে অব্যাহতভাবে বালু উত্তোলন করায় নদীর অপর পারের বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আবদুর রউফের বাড়ি যাওয়ার একমাত্র সড়কটিতেও ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থবছরে ডুমাইন বালুমহালের ২ দশমিক ৪৩ একর জায়গা ১১ লাখ টাকায় এবং মচলন্দপুর বালুমহালের ৩১ একর জায়গা ৩১ লাখ টাকায় ইজারা দেওয়া হয় মাগুরা জেলার আলীয়ার রহমানকে। এ প্রসঙ্গে ইজারাদার আলীয়ার রহমান বলেন, ডুমাইন বালুমহালে বেশির ভাগই মাটি, সেখানে বালু নেই বললেই চলে। সে জন্য মাগুরা জেলা প্রশাসন থেকে ইজারা নিয়ে রাজধরপুর থেকে বালু তোলা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, এর ফলে বিদ্যুতের টাওয়ার বা ব্রিজের পিলারের কোনো ক্ষতি হচ্ছে না। ফরিদপুর জেলা প্রশাসক উম্মে সালমা তানজিয়া বলেন, সরকারি বালুমহালের বাইরে গিয়ে যারা যত্রতত্র বালু উত্তোলন করছেন, তাদের বিরুদ্ধে শিগগিরই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত