জামায়াতে ইসলামীর কোনো নেতার আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ার প্রমাণ নেই দাবি করে দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘যদি’ নদীতে ফেলে দেন।
একাত্তরের ভূমিকার জন্য ক্ষমা চেয়ে কোনো জামায়াত নেতা ‘যদি’ আওয়ামী লীগে যোগ দিতে চান, তাহলে তারা বিষয়টি কীভাবে দেখবেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।
সোমবার দুপুরে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন ওবায়দুল কাদের।
জামায়াত নতুন নামে মাঠে আসার পরিকল্পনা করছে, বিষয়টি কীভাবে দেখছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “নতুন বোতলে পুরাতন পানীয়- এমন যদি হয়? নাম পরিবর্তন করবে কিন্তু আদর্শ একই এবং অটুট থাকবে, তাহলে সেটা পরিবর্তন কি? এটাকে পরিবর্তন বলা চলে না।”
জামায়াতের বর্তমান পরিস্থিতিকে কীভাবে দেখছে আওয়ামী লীগ- এমন প্রশ্নের জবাবে ক্ষমতাসীন দলটির সাধারণ সম্পাদক বলেন, “শেষ না দেখা পর্যন্ত আমরা কোনো মন্তব্য করতে চাই না।”
জামায়াতের কোনো নেতা যদি ৭১’র ভুল বুঝতে পেরে জাতির কাছে ক্ষমা চেয়ে আওয়ামী লীগে যোগদানের প্রস্তাব করে, তাহলে কী করবেন আপনারা- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “এরকম কোনো প্রস্তাব কেউ কি করেছে? ‘যদি’ নদীতে ফেলে দেন। জামায়াতের কোনো লোককে আমরা মনোনয়ন দিইনি। জামায়াতের কোনো নেতা তৃণমূলে যোগ দেওয়ার প্রমাণ আমাদের কাছে নেই।”
এখন জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার উপযুক্ত সময় কিনা- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, “আমরা সবসময়কে উপযুক্ত সময় মনে করি। এখানে আদালতের একটা সিদ্ধান্তের বিষয় রয়েছে। সেটা তো আমরা উপেক্ষা করতে পারি না।”
বিএনপি উপজেলা নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের হতাশা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এটা তার ব্যক্তিগত বিষয়। আমরা যে কোনো মুহূর্তে লড়াই করতে পারি। হতাশা আমাদের অভিধানে নেই।”
এসময় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দল মনোনীত কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আসলে আমরা তা খতিয়ে দেখব। যদি অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়, তাহলে তাদের প্রার্থিতা আমরা রাখব না, বিকল্প প্রার্থী দেব।
তিনি বলেন, চেয়ারম্যান পদে আমাদের দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হচ্ছে। ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদটি উন্মুক্ত। তবে স্থানীয় পর্যায়ে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে নেতারা ইচ্ছা করলে একজন একজন মনোনয়ন দিতে পারবেন। এই অপশনটা আমরা তাদের ওপর ছেড়ে দিয়েছি। যদি না পারে তাহলে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতায় যারা জিতবেন, তারাই বিজয়ী হবেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, উপজেলা নির্বাচন যাতে অংশগ্রহণমূলক ও সুন্দর হয়। সুন্দর ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আমরা নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করব। দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকরা বিষয়টি নিয়ে তদারকি করবেন।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-ডাকসু নির্বাচন নিয়ে আমাদের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এবং আখতারুজ্জামান নেত্রীর গাইডলাইন অনুযায়ী অনেকগুলো পদক্ষেপ নিয়েছেন।
