সৌদি যুবরাজ এখন নিশান-ই-পাকিস্তান

ইসলামাবাদকে ২০০০ কোটি ডলার দিল রিয়াদ

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১১:০৯ পিএম

পাকিস্তানের সঙ্গে ২ হাজার কোটি ডলারের বিনিয়োগ চুক্তির এক দিন পর দেশটির সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পেয়েছেন সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস)। সফরের দ্বিতীয় দিন গতকাল সোমবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভির সঙ্গে তার ভবনে সাক্ষাৎ করেন সৌদি যুবরাজ। ওই সময় আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে ‘নিশান-ই-পাকিস্তান’ সম্মাননা দেওয়া হয় বলে আলজাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পুলওয়ামায় আত্মঘাতী বোমা হামলায় সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশের ফোর্সের (সিআরপিএফ) ৪১ জওয়ান নিহত হওয়ার পর দেশটির সঙ্গে পাকিস্তানের বিরোধ চরম পর্যায়ে পৌঁছায়। হামলার জেরে পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার হুমকি দেয় ভারত। পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধও শুরু করে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশটি। এর মধ্যেই মিত্র রাষ্ট্রটিতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগে চুক্তি করল সৌদি।

দ্য ডনের খবরে জানানো হয়, প্রেসিডেন্ট ভবনে মানপত্রে ‘পাকিস্তান-সৌদির সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করতে অসাধারণ সহায়তা দেওয়ায়’ এমবিএসকে পুরস্কৃত করা হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সৌদি যুবরাজের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার পর পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আলভি বলেন, ‘এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে পারাটা আমার জন্য সৌভাগ্যের।’ তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘ সময় ধরে সৌদি আরব ও পাকিস্তান পরস্পরের অপরিহার্য মিত্র। আমরা কয়েক শতাব্দী ধরে ঐক্যবদ্ধ। আমাদের বন্ধুত্ব ধর্ম ও সংস্কৃতির বন্ধনে আবদ্ধ।’

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ‘আধুনিকায়ন প্রচেষ্টার’ জন্য সৌদি যুবরাজকে অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে সৌদির ‘অগোচরে থাকা’ পর্যটনক্ষেত্রগুলো সামনে নিয়ে আসায় যুবরাজের প্রশংসা করেন তিনি।

প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের পর সৌদি যুবরাজ অনুষ্ঠানের অতিথিদের উদ্দেশে বলেন, ‘পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পেরে আমি সম্মানিত বোধ করছি। আমাকে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ পুরস্কার দেওয়ায় আপনাকে ধন্যবাদ জানাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘(সৌদি) রাজতন্ত্র ও পাকিস্তানের ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্ক ইসলামি সংহতির নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। অন্য দেশগুলোরও উচিত এ মডেল অনুসরণ করা।’

পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া, সিনেটের চেয়ারম্যান সাদিক সানজরানি, জাতীয় পরিষদের স্পিকার আসাদ কায়সার প্রমুখ।

সৌদি যুবরাজের তিন দেশ সফরের শুরুটা হয় পাকিস্তান দিয়ে। এ সফর শেষে চীন ও ভারতে যাবেন তিনি। গত রবিবার সফর শুরুর দিনে সৌদি যুবরাজকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেয় পাকিস্তান। দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ইসলামাবাদের একটি বিমানঘাঁটিতে এমবিএসকে অভ্যর্থনা জানান। পরে তিনি নিজে গাড়ি চালিয়ে তাকে নিয়ে

গন্তব্যে যান। দুই নেতা দুই দেশের প্রতিনিধি পর্যায়ে একান্ত বৈঠক শেষে সাতটি বিনিয়োগ চুক্তিতে সই করেন।

দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সময় প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান সৌদিতে কঠিন সময় পার করা ২৫ লাখ পাকিস্তানিকে সহায়তা করতে এমবিএসের প্রতি আহ্বান জানান। জবাবে সৌদি যুবরাজ তাকে বলেন, ‘আমরা পাকিস্তানকে না বলতে পারি না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত