ঢামেকে চার বছর হয়নি অগ্নিনির্বাপণ মহড়া

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৪:৪৭ এএম

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) গত চার বছরে কোনো অগ্নিনির্বাপণ মহড়া হয়নি। হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের কাছে কোনো আবেদন করেনি। ফলে এখানকার অধিকাংশ নার্স কর্মকর্তা ও কর্মচারী আগুন লাগলে কী করণীয় সে বিষয়ে তেমন কিছু জানেন না। এ পরিস্থিতিতে গতকালও ঢামেকের অপারেশনের যন্ত্রপাতি বিশুদ্ধকরণ রুমে (অটো ক্লাভ রুম) বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। তবে আগুন বেশি ছড়াতে পারেনি।

গতকাল সকাল ৮টার দিকে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা না ঘটলেও হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স ও রোগীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে ভয়ে হাসপাতালের ভবন থেকে দৌড়ে বের হয়ে নিরাপদ স্থানে সরে যায়।

ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার এরশাদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সোমবার সকাল ৮টার দিকে ঢামেকে আগুন লেগেছে এমন তথ্য পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। কিন্তু তার আগেই আগুন নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।’

একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঢামেকের জরুরি বিভাগের পাশে অটো ক্লাভ রুমে সোমবার সকালে হঠাৎ আগুন লাগে। এ সময় ভবনের বাইরে বৈদ্যুতিক তারেও আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। চারদিকে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। তবে মুহূর্তের মধ্যেই আগুন নিভে যায়।’

ঢামেকের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যে রুমে আগুনের সূত্রপাত হয় সেখানে যন্ত্রপাতি জীবাণুমুক্ত করা হয়। আগুন ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রাণহানি হতে পারত।’

আগুন নির্বাপণে কী করণীয় এ বিষয়ে ঢামেকে গত কয়েক বছর কোনো প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় না বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক আবদুল হালিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত চার বছর ঢামেকে কোনো অগ্নিনির্বাপণ মহড়া হয় না। হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ আমাদের কাছে কোনো আবেদন করেনি। হাসপাতাল থেকে আবেদন করা হলে আমরা ব্যবস্থা নেব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগামী ১০ মার্চ দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস উপলক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল অথবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে মহড়া হবে।’

আগুন লাগার বিষয়টি অস্বীকার করেন ঢামেকের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন। আগুনের বিষয়ে কোনো প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে ‘আপনার যা মনে হয় লিখে দেন’ বলেই ফোন কেটে দেন। এরপর একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত