কোটি টাকা মাসোহারা নিতেন ওসি মোশাররফ

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১১:৩৯ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সীমান্তবর্তী থানা আখাউড়ার আলোচিত ওসি মোশাররফ হোসেনকে অবশেষে প্রত্যাহার (ক্লোজ) করা হয়েছে। গত শনিবার রাতে তাকে জেলা পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়। শীর্ষ মাদক কারবারিদের সঙ্গে সখ্য, তাদের কাছ থেকে মাসে কোটি টাকা মাসোহারা উত্তোলন, ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা আদায় করা ছাড়াও নানা অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

আখাউড়া ওসি হিসেবে ২০১৫ সালের ২১ অক্টোবর যোগ দেন মোশাররফ হোসেন। তাকে ক্লোজ করার খবরে আখাউড়ার মানুষ স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। ওই ওসির বিরুদ্ধে আখাউড়া পৌর এলাকার সচেতন নাগরিকদের নামে তিন পৃষ্ঠার একটি অভিযোগ দেওয়া হয় পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ে। ওই অভিযোগে বলা হয়, ওসি মোশাররফ মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে মাদক কারবারিদের সহায়তা করতেন। আখাউড়ার পাঁচটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ৩৫০টি মাদক স্পট চলার সুযোগ দিয়ে তিনি প্রতি মাসে প্রায় কোটি টাকা মাসোহারা তুলেছেন। টাকার বিনিময়ে মাদক কারবারিদের ছেড়ে দিতেন আর ক্রসফায়ার ও মাদক মামলায় জড়ানোর ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করতেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ওসি নিজে একটি বিকাশ নম্বরে (০১৭১১১২৫৪১২) মাদকের মাসোহারার টাকা নিতেন। তা ছাড়া থানার আশপাশের কয়েকটি বিকাশ এজেন্টের কাছে তার মাসোহারার টাকা আসত। এ কাজে তাকে সহায়তা করেন থানা পুলিশের কয়েকজন সদস্য।

আখাউড়া থানার ওসি (তদন্ত) আরিফুল আমিন জানান, ‘ওসি দোতলার একটি রুমে থাকতেন। আমরা কিছু দেখিনি, জানিও না।’ তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে মোশাররফ হোসেন বলেন, ওভারডিউ হওয়ায় তাকে পুলিশ লাইনে বদলি করা হয়েছে। তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন জানান, ওসি মোশাররফকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত