চকবাজারে আগুন নিয়ে যা বলল কর্তৃপক্ষ

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৯:৪৪ পিএম

পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুয়ায়ী ৭০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। অগ্নিদগ্ধ হয়ে হাসপাতালে আছেন আরও অর্ধশতাধিক।

নিমতলির ভয়াবহ ঘটনার ৮ বছরের ব্যবধানে ফের একই ধরনের ঘটনা ঘটল। ঘটনার পর সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্তা ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সেখানে তাঁরা কথা বলেছেন। হাসপাতালে আহতদের দেখতে গিয়েও অনেকে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন। কোনো কোনো দপ্তর আবার বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাদের উদ্বেগ ও উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এই মন্ত্রণালয় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটি সাত দিনের মধ্যে রিপোর্ট দেবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রসচিব।

শ্রম মন্ত্রণালয়:  শ্রম মন্ত্রণালয় এক বিবৃতির মাধ্যমে জানিয়েছে, আগুনে পুড়ে নিহতদের মধ্যে যারা শ্রমিক তাদের প্রত্যেকের পরিবারকে এক লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হবে। আর আহতদের চিকিৎসার জন্য দেওয়া হবে ৫০ হাজার টাকা করে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, ‘অগ্নিদগ্ধদের জন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা আছে। চিকিৎসা খরচ সরকার বহন করবে। ঢাকা মেডিকেলসহ কয়েকটি হাসপাতালকে রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’ তিনি এই ঘটনাকে নিমতলির ঘটনার পুনরাবৃত্তি বলে মন্তব্য করেন।

পুলিশ মহাপরিদর্শক: পুলিশ মহাপরিদর্শক জাবেদ পাটোয়ারী বলেছেন, এ ধরনের জনবহুল আবাসিক এলাকা থেকে কেমিক্যালের সব ধরনের উৎস সরিয়ে ফেলা উচিত। আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় উদ্যোগ নিয়েছি। কিন্তু কেমিক্যালের এসব উৎস অপসারণে সিটি করপোরেশনসহ আরও বিভিন্ন সংস্থা রয়েছে। এর জন্য সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন: একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন সরাসরি ঘটনাস্থলে চলে যান। সেখানে প্রায় সারা রাত অবস্থান করেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘এসব দাহ্য পদার্থের গোডাউন উচ্ছেদের জন্য কঠোর থেকে কঠোরতর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুরান ঢাকায় আর কোনো কেমিক্যালের গোডাউন থাকবে না, থাকবে না, না।’ তিনি বলেন, ‘আবাসিক এলাকায় দাহ্য পদার্থ ও কেমিক্যালের গোডাউন উচ্ছেদ অভিযান চলছিল। তবে এরই মধ্যে এমন ট্র্যাজেডি দেখতে হলো।’

বিস্ফোরক পরিদপ্তর: পরিদপ্তরের প্রধান বিস্ফোরক পরিদর্শক মো. সামসুল আলম বিবিসিকে বলেছেন, ‘উচ্চমাত্রার রাসায়নিক দাহ্য পদার্থের কারণেই অগ্নিকাণ্ড বীভৎস রূপ পেয়েছে। নিমতলীর ঘটনার পর এ ধরনের দাহ্য পদার্থের দোকান বা গোডাউন সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। ২৯টি কেমিক্যালের তালিকাও করেছিলাম যেগুলো রাখা যাবে না। নিষেধাজ্ঞা মানলে বা এটি বাস্তবায়ন করা গেলে আজ এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না।’

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকাল সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, আজকের এই ঘটনায় তাঁরা আবারও শিক্ষা পেয়েছেন। আর যেন এমন ঘটনা না ঘটে সে জন্য এখন ব্যবস্থা নেবেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত