পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ ও নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হয়েছে ভাষাশহীদদের। গতকাল মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানমালার খবর পাঠিয়েছেন দেশ রূপান্তরের প্রতিনিধিরা।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের শহীদ বেদিতে হাজারো মানুষ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে। ভাষাশহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে নানা বয়সী মানুষের অর্পিত পুষ্পাঞ্জলিতে ভরে যায় শহীদ বেদি। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের আয়োজন করা হয়। ভাষা দিবসের কালজয়ী গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গেয়ে সারিবদ্ধভাবে শহীদ মিনারে পুষ্পাঞ্জলি দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় সর্বস্তরের জনতা।
প্রথমেই চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পাঞ্জলি দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ সালাম, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, বিভাগীয় কমিশনার আবদুল মান্নানসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।

রাজশাহীর শহীদ মিনারগুলোতে বিভিন্ন বয়সী মানুষের ভিড় নামে। মধ্যরাতে রাজশাহী কলেজ ও ভুবন মোহন পার্ক শহীদ মিনারে বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। প্রথম প্রহরে রাজশাহী কলেজ শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষাশহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন।
কুমিল্লা টাউন হলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রথমে প্রহরে ভাষাশহীদদের প্রতি পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শুরু হয়। প্রথমে কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর, কুমিল্লার দায়রা জজ, পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
সিরাজগঞ্জে একুশের প্রথম প্রহরে শহরের মুক্তির সোপানে স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. হাবিবে মিল্লাত মুন্না, জেলা প্রশাসন, জেলা আওয়ামী লীগ, সিরাজগঞ্জ প্রেস ক্লাব, পৌর আওয়ামী লীগ, পুলিশ প্রশাসন, বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
বাগেরহাট শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষ। রাত ১২টা ১ মিনিটে সমবেত হয়ে তারা শহীদ মিনারে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। প্রথমে জেলা প্রশাসনের পক্ষে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক তপন কুমার বিশ্বাস, পুলিশ সুপার পংকজ চন্দ্র রায় শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
গাইবান্ধা পৌরপার্কের শহীদ মিনারে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। প্রথম পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন জাতীয় সংসদের হুইপ মাহাবুব আরা বেগম গিনি। পরে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও পৌর মেয়রের পক্ষ থেকে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়।
মৌলভীবাজার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রথম প্রহরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, স্থানীয় সংসদ সদস্য নেসার আহমদ, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, মৌলভীবাজার পৌরসভা, মৌলভীবাজার প্রেস ক্লাব, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, টিভি জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (ইমজা), সিভিল সার্জন, মৌলভীবাজার চেম্বারসহ বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান।
কুষ্টিয়া কালেক্টর চত্বরের শহীদ মিনারে রাত ১২টা ১ মিনিটে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন ও পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাত পুষ্পস্তক অর্পণ করেন। পরে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী সংগঠন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীদের ঢল নামে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধার্পণে।
নীলফামারীতে প্রথম প্রহরে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিন। এরপর জেলা পুলিশ বিভাগের পক্ষে পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ, জেলা কৃষি বিভাগ, নীলফামারী পৌরসভা, সদর উপজেলা পরিষদ পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন।
ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পটুয়াখালী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ঢল নামে হাজারো মানুষের। রাত ১২টা এক মিনিটে জেলা প্রশাসনের পক্ষে জেলা প্রশাসক মতিউল ইসলাম চৌধুরী প্রথম শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর পুলিশ প্রশাসন, জেলা পরিষদ, পৌরসভা, প্রেস ক্লাবসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
নাটোরে রাত ১২টা ১ মিনিটে কানাইখালী মাঠের শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে ভাষা দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। জেলা প্রশাসক মো. শাহরিয়াজের
নেতৃত্বে জেলা প্রশাসন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, পুলিশ প্রশাসন, নাটোর জেলা পরিষদ এবং জেলা আওয়ামী লীগ শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়।
রাঙামাটিতে জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশীদ, পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা ও পুলিশ সুপার আলমগীর কবির শহীদ মিনারে পুষ্পাঞ্জলি দেন। এরপর একে একে সরকারি-বেসরকারি ও রাজনৈতিক দলগুলোসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়।
নড়াইল দানবীর ফাজেল মোল্লা চত্বরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সরকারি দপ্তরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়। পরে ভাষা আন্দোলনের সময় নিহতদের স্মরণে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
কিশোরগঞ্জ জেলা সদরের সরকারি গুরুদয়াল কলেজ মাঠের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. রেওজোয়ান আহম্মেদ তৌফিক, কিশোরগঞ্জে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. জিল্লুর রহমান, জেলা প্রশাসনের পক্ষে জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী ও জেলা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষে কিশোরগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ (বিপিএম), কিশোরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো. পারভেজ মিয়া পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় প্রথমে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে ভারপ্রাপ্ত জেলা কমান্ডার ও জেলা প্রশাসক মো. শহিদুল ইসলাম মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এর পর শরণার্থী পুনর্বাসন বিষয়ক টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান (প্রতিমন্ত্রী) কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি, তিন পার্বত্য জেলা থেকে নির্বাচিত সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ সদস্য বাসন্তী চাকমা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
জয়পুরহাটের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাকির হোসেন, পুলিশ সুপার রশিদুল হাসান, জয়পুরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য সামছুল আলম দুদু, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান রকেট, জেলা আওয়ামী লীগ, জেলা বিএনপি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।
ঝিনাইদহে রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জেলা প্রশাসনের পক্ষে জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ, পুলিশ বিভাগের পক্ষে পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান, জেলা আওয়ামী লীগ, জেলা পরিষদ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, সিভিল সার্জন অফিস, ঝিনাইদহ প্রেস ক্লাবসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, রাজনৈতিক দলসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন।
ফরিদপুরে ভাষাশহীদদের প্রতি পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, প্রভাতফেরি, আলোচনা সভা, চিত্রাঙ্কন, স্বেচ্ছায় রক্তদান আর গানের মধ্য দিয়ে অমর একুশে ফেব্রুয়ারি ও
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হয়েছে।
মাগুরায় হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জেলা প্রশাসক মো. আলী আকবর, পুলিশ সুপার খান মোহাম্মদ রেজওয়ান, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পঙ্কজ কু-ু, জেলা ও দায়রা জজ শেখ মাফিজুর রহমান, পৌর মেয়র খুরশীদ হায়দার টুটুলসহ জেলা আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, মাগুরা প্রেস ক্লাব, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সর্বস্তরের মানুষ শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে মহান ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ প্রভাতফেরিতে অংশ নিয়েছে চট্টগ্রামের আনোয়ারার বরুমচড়া শহীদ বশরুজ্জমান উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে ফুলের মালা দিয়ে তারা দুই গ্রামের আট কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে এ প্রভাতফেরি করে।
সকালে বিদ্যালয় মাঠে প্রাত্যহিক সমাবেশের মাধ্যমে দিনের কার্যক্রম শুরু হয়। প্রভাতফেরিতে শিক্ষার্থীরা কালো ব্যাজ ধারণ ও নানা ধরনের ব্যানার-ফেস্টুন বহন করে।
এ ছাড়া অন্যান্য জেলা ও বিভিন্ন উপজেলা থেকেও ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করার খবর পাওয়া গেছে। আলাদাভাবে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানো হয়েছে বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও।
