ভারত ছেড়ে গত কয়েকদিনের মধ্যে ৫০০-এর বেশি কাশ্মীরি শিক্ষার্থী এবং ১০০ ব্যবসায়ী পালিয়ে গেছেন। পুলওয়ামায় আত্মঘাতী বোমা হামলার পর ভারতের বিভিন্ন স্থানে সাধারণ কাশ্মীরিরা হামলার শিকার হওয়ায় পালিয়ে যাওয়ার এই ঘটনা ঘটছে। উত্তর প্রদেশের দেরাদুনে গতকাল বৃহস্পতিবারও কাশ্মীরি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। শিক্ষার্থীদের ছাত্রাবাসের বাইরে উত্তেজিত জনতা ‘বিশ্বাসঘাতক’ এবং ‘সন্ত্রাসী’ বলে স্লোগান দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে। আর এমন অবস্থায় দেরাদুনের একটি হোস্টেলের কক্ষে দুই রাত ধরে ৩০ জনের অধিক শিক্ষার্থী অবরুদ্ধ হয়ে ছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পলাতক এক কাশ্মীরি বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, ‘কাশ্মীরে ফিরতে আমার চার দিন সময় লেগেছে। পুলিশ এবং একজন মুসলিম ব্যবসায়ীর সাহায্যে আমি ভারত ছেড়ে পালিয়েছি। একটি রুমের মধ্যে আমরা ৩০ জন দুই রাত অবরুদ্ধ হয়ে ছিলাম।’ জানা যায়, একজন মুসলিম ব্যবসায়ী ওই ৩০ জনকে তার বাড়িতে আশ্রয় দিয়ে পরে অবস্থা বুঝে গাড়িতে তুলে দেন।
প্রতি বছর ভারতের মূল ভূখণ্ডে কাশ্মীর থেকে ১১ হাজার শিক্ষার্থী বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়তে আসে। এই শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই গোপনে চলে যাচ্ছে কাশ্মীরে। তারা এখন উভয় সংকটে। কারণে কাশ্মীরে গেলে তরুণ হিসেবে তারা সেনা নজরদারির মধ্যে থাকে, আর ভারতে থাকলে এখন স্থানীয়দের রোষের শিকার হচ্ছে। চলতি সপ্তাহেই দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক জনসমক্ষে ৪০ জন কাশ্মীরিকে হত্যার আহ্বান জানান পুলওয়ামার ঘটনার প্রতিশোধ হিসেবে। কাশ্মীর ট্রেডার্স অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারার্স ফেডারেশনের প্রধান মোহাম্মদ ইয়াসিন খান এএফপিকে জানান, ‘৫০০-এর অধিক শিক্ষার্থী এবং ১০০ ব্যবসায়ী কাশ্মীরে ফিরে এসেছেন। ভারতে এখন ভয় আর ত্রাসের পরিবেশ বিরাজ করছে। ভারতের বিভিন্ন স্থান থেকে সাধারণ কাশ্মীরিরা আমাদের কাছে সাহায্যের জন্য ফোন করছেন।’
ভারতের কিছু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কিছু কাশ্মীরি শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারও করে দেওয়া হয়েছে। যদিও দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজ্য সরকারগুলোকে কাশ্মীরি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু কিছু রাজনীতিক কাশ্মীরবিরোধী মনোভাব উসকে দিচ্ছেন। মেঘালয়ের রাজ্য গভর্নর তথাগত রায় টুইটবার্তায় কাশ্মীরে যেতে এবং কাশ্মীরি পণ্য বর্জনের ডাক দিয়েছেন। বর্তমানে কাশ্মীরে পাঁচ লাখের বেশি ভারতীয় সৈন্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যকার রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের ফলে কাশ্মীরের সাধারণ মানুষের জীবনযাপন বিপর্যন্ত হচ্ছে প্রতিদিন।
