দখল দূষণে মৃতপ্রায় বংশী সাভারের ১২ খাল বন্ধ

আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১২:৩৬ এএম

দখল আর দূষণে অস্তিত্ব হারাতে বসেছে রাজধানীর উপকণ্ঠ সাভারের বংশী নদী। তীর দখল করে গড়ে তোলা হচ্ছে শিল্প-কারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। দখলের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি পৌর শহরের পাশে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রকাশ্যে এসব হলেও প্রশাসন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ রাসেল হাসান বলছেন, ‘৬৫ জন দখলদারের তালিকা জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে। সেখানে সাভার বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি ও প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতাদের নাম রয়েছে। নির্দেশনা পেলে যেকোনো সময় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।’

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, সাভারের নয়ারহাট থেকে শহীদ রফিক সেতু পর্যন্ত বংশী নদীর প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকা দখল ও দূষণের কারণে অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। নামাবাজার এলাকায় নদীর তীর দখল করে কয়েক হাজার পাকা ও আধা পাকা স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। পানিতে ইট, খোয়া আর বালু ফেলে ডাল ভাঙানোর কারখানা গড়ে তুলেছে। সাভার থানা সংলগ্ন নদীর পশ্চিম তীর ঘেঁষে প্রায় পাঁচ একর সরকারি জায়গার ওপর গড়ে তোলা হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা আবাসন এলাকা। এ ছাড়া পাঁচ শতাধিক শিল্পকারখানা থেকে বিরামহীনভাবে নির্গত বর্জ্য বিষিয়ে তুলেছে পরিবেশ। এতে অধিকাংশ নদী ও খাল-বিলে পানির বদলে মিলছে বিষাক্ত শিল্পবর্জ্য। প্রতিনিয়ত পানিবাহিত রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে স্থানীয়রা।

সাভার নদী ও পরিবেশ উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি রফিকুল ইসলাম ঠান্ডু মোল্লা দেশ রূপান্তরকে বলেন, একসময় সাভার ছিল নদী-নালা, খাল-বিল, কৃষি ও মৌসুমি ফলে সমৃদ্ধ। কিন্তু প্রভাশালীরা সাভারের নদী-নালা ও খাল দখল করে চলেছেন। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এম শামসুল হক বলেন, ‘দখলের কারণে সাভারের অন্তত ১২টি খাল বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া বংশী, তুরাগ ও ধলেশ্বরী নদী দখল করে গড়ে তোলা হচ্ছে বড় বড় ভবন। এভাবে চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে এলাকায় সুপেয় পানির অভাব দেখা দেবে। এসব দখল ও দূষণ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন করলেও কোনো সুফল মিলছে না।’ স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উদাসীন বলেও অভিযোগ তার। নামাবাজারের কাঠ ব্যবসায়ী সোলেমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পৌরসভার ভ্যানে নদীতে বর্জ্য ফেলে তার ওপর বালু দিয়ে দোকান স্থাপন করে ভাড়া দেওয়া হয়।’ এ বিষয়ে পৌর মেয়র হাজি আবদুল গনি বলেন, ‘পৌরসভায় ময়লা ডাম্পিংয়ের ব্যবস্থা না থাকায় যত্রতত্র ময়লা ফেলা হতো। এখন নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত