বই পড়ে পুরস্কার পেয়েছে রাজধানীর ৬৮ বিদ্যালয়ের ৩ হাজার ৮৭৪ জন শিক্ষার্থী। গতকাল শুক্রবার নটর ডেম কলেজে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র আয়োজিত দুদিনব্যাপী উৎসবে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। আজ পুরস্কার পাবে ২৮ বিদ্যালয়ের ১ হাজার ৯৯৮ জন। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বইপড়া কার্যক্রমে এবার পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছে ৯৬ বিদ্যালয়ের মোট ৫ হাজার ৮৭২ শিক্ষার্থী। স্বাগত পুরস্কার, শুভেচ্ছা পুরস্কার, অভিনন্দন পুরস্কার ও সেরা পাঠক পুরস্কার; বিজয়ীদের এই চার ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে।
উৎসবে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সভাপতি অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, ‘পৃথিবীতে দুই ধরনের মহৎ মানুষ আছে। এক ধরনের মানুষ প্রকৃত বই পড়ে জাতিকে শিক্ষিত করার চেষ্টা করেছেন। আরেক ধরনের মানুষ বই না পড়েও জাতিকে শিক্ষিত বা সচেতন করার চেষ্টা করেছেন। উভয়ের উদ্দেশ্য একই; মানুষের কল্যাণ।’ তিনি বিখ্যাত মনীষীদের বই পড়ার মাধ্যমে দেশের কল্যাণে নিজেদেরকে নিয়োজিত করতে শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।
জনপ্রিয় লেখক ও অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, ‘বর্তমানে বই পড়া কমে ফেইসবুক ব্যবহারের প্রবণতা বেড়ে গেছে।’ অতিরিক্ত ফেইসবুক ব্যবহারকে মাদকের সঙ্গে তুলনা করে তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমরা যারা ফেইসবুক ব্যবহার কর, তারা তা ছেড়ে বই পড়ায় মনোযোগী হবে আশা করি।’
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) প্রধান নির্বাহী ড. ইফতেখারুজ্জামান পুরস্কারপ্রাপ্তদের উদ্দেশে বলেন, ‘আজকে মানুষের জন্য সবচেয়ে কঠিন কাজ হচ্ছে মানুষ হওয়া। এজন্য আমাদের প্রচুর বই পড়া প্রয়োজন। তাই তোমরা বিশ্বসাহিত্যের সেরা বইগুলো পড়ে মানুষের মতো মানুষ হবে।’ অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সাহিত্যিক ও সাংবাদিক আনিসুল হক, সাবেক সচিব আমিনুল ইসলাম ভুঁইয়া এবং গ্রামীণফোনের হেড অব সাসটেইনেবিলিটি রাসনা হাসান। উৎসবে সহযোগিতা দিচ্ছে গ্রামীণফোন।
