তাইওয়ানের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট সাই ইং ওয়েন। তিনি পারিবারিক সূত্রে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। ৬২ বছর বয়সী সাবেক এই আইনজীবী সময়ের প্রয়োজনে রাজনীতিতে আসেন। কিন্তু তার একদিকে আগ্রাসী চীন এবং অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র মদদপুষ্ট অনানুষ্ঠানিক মিত্র। এই দুই দেশের মাঝখানে জাতীয়তাবাদী বৈশিষ্ট্য নিয়ে তাইওয়ান এখন টানাটানিতে।
সাইয়ের জাতীয়তাবাদী অবস্থান এবং তাইওয়ানের স্বার্থ প্রশ্নে আপসহীন বক্তব্য তাকে অনেকটাই এগিয়ে রেখেছে। তিনি সম্প্রতি এক বক্তব্যে বলেছিলেন, তার সরকারের অন্যতম লক্ষ্য অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জায়গায় ভারসাম্য বজায় রাখা। তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, ‘আমি যখন প্রেসিডেন্ট হই, তখন নিজেকে আরও জনবিচ্ছিন্ন মনে হতে থাকে। কিছু ক্ষেত্রে জনগণের থেকে নিজেকে পৃথক মনে হচ্ছিল।’ পেনশন সংস্কার এবং সমকামী ইস্যুতে দেশের মধ্যে কিছুটা অস্বস্তিকর অবস্থায় আছেন সাই। কিন্তু ২০২০ সালের নির্বাচনে নিজের ভাবমূর্তি রক্ষা করতে কিছুটা বেগ পেতে হবে তাকে। কিছু জরিপে বলা হচ্ছে, কুইমিনতাংয়ের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী এরিক চুয়ের তুলনায় সাইয়ের ৩০ শতাংশ জনমত কমেছে। সিএনএনকে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সাই বলেন, ‘আমি শুধু জনগণকে অধিক পরিমাণে ভাত খেতে বলেছি। কারণ এটা স্বাস্থ্যকর এবং স্থানীয় শিল্প উন্নয়নে সাহায্য করে। নুডলস আমাদের জন্য ভালো নয়।’ জনগণকে অতিরিক্ত ভাত খেতে বলায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি।
১৯৪৯ সাল থেকে তাইওয়ান স্বায়ত্তশাসিত। পেইচিং এখনো এই ভূমিকে তাদের প্রদেশ হিসেবে মনে করে এবং চীনের সঙ্গে একীভূত হওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে আসছে। কিন্তু সাই এই একীভূত হতে তীব্র অস্বীকৃতি জানালে তাইওয়ানবাসীর কাছে ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। ২০১৮ সালের ৭ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের দুটি ডেস্ট্রয়ার তাইওয়ান অন্তরীপে প্রবেশ করলে নতুন করে উত্তেজনার শুরু হয়। তাইওয়ান যুক্তরাষ্ট্রের ভৌগোলিক আধিপত্য বিস্তারের স্বার্থের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থান। অন্যদিকে চীনের কাছে তাইওয়ান তার নিজের অর্থনৈতিক ছাড়াও আঞ্চলিক রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তারের সীমানা। চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং ২০২৫ সালকে মাথায় রেখে যে ভিশন তৈরি করেছেন তাতে তাইওয়ান অনেক গুরুত্ব পেয়েছে। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এশিয়ার রাজনীতিতে যে পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়ন করেছেন তাতেও তাইওয়ান জায়গা পেয়েছে। তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে ওই অঞ্চলে সামরিকীকরণ বৃদ্ধিতে ওয়াশিংটন ৭১৭ বিলিয়ন ডলার প্রতিরক্ষা বাজেটও তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের হাতে নির্ভর করছে অনেক কিছু। তিনি যেকোনো এক পক্ষ অবলম্বন করলেই যুদ্ধ অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু তিনি যদি ভারসাম্য বজায় রাখার রাজনীতি চালান সেক্ষেত্রে আগামী নির্বাচনে নাও জিততে পারেন। কারণ তার চীনবিরোধী ইমেজ ইতোমধ্যেই ব্যাপক সাড়া পেয়েছে। তাই তো সাইয়ের কণ্ঠে শোনা যায়, ‘বৈশ্বিক গণতন্ত্র কোনো একটি বা দুটি দেশের ওপর নির্ভরশীল হওয়া উচিত নয়।’
