দখল-দূষণে মৃতপ্রায় ইছামতী

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১২:৩৭ এএম

একসময়ের ক্ষরস্রোতা ইছামতী এখন দখল-দূষণে ভাগাড়ে পরিণত হতে চলেছে। জেলা শহর পাবনার বুক চিরে প্রবাহিত এ নদী এখন শুধুই স্মৃতি। স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি দখল করে গড়েছেন পাকা স্থাপনা। ময়লা-আবর্জনায় পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে এখন তা মৃতপ্রায়। সামাজিক আন্দোলন ও আইনি পদক্ষেপেও প্রতিকার হচ্ছে না, যে কারণে হতাশ পাবনাবাসী। ১৯৭০-এর দশকে পাবনা পৌর এলাকার প্রায় আট কিলোমিটার জুড়ে ছিল ইছামতীর বিস্তার, প্রস্থ ছিল ৯০ থেকে ২০০ ফুট। অথচ অব্যাহত দখলে নদীর প্রস্থ কমে এখন দাঁড়িয়েছে ২৫ থেকে ৩০ ফুটে। সংস্কারের অভাবে অধিকাংশ এলাকা ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে গেছে। প্রভাবশালীদের দৌরাত্ম্যে দখল হয়েছে দুই তীর। সরেজমিনে পাবনা পৌর এলাকায় ইছামতী নদী ঘুরে দেখা যায়, নদীর বিভিন্ন স্থান বদ্ধ জলাশয়ে পরিণত হয়েছে। ইছামতী বাঁচাও আন্দোলনের আহ্বায়ক ফারুক হোসেন চৌধুরী বলেন, বারবার নদী খননের উদ্যোগের কথা শোনা গেলেও অদৃশ্য কারণে তা থেমে যায়। সব সরকারই কেবল আশ্বাস দিয়েছে; বাস্তবায়ন এখনো হয়নি। নদী উদ্ধারে ব্যবস্থা নিতে ২০১৭ সালে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আইনি নোটিস দিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতিও। এতেও কাজ না হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে কর্র্তৃপক্ষের সদিচ্ছা নিয়ে।

তবে কর্র্তৃপক্ষ বলছে, নদী খননে শুরু হয়েছে প্রকল্প প্রণয়ন। অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে শিগগিরই মাঠে নামবে প্রশাসন। পানি উন্নয়ন বোর্ড, পাবনা বিভাগীয় অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী কে এম জহুরুল হক জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিশেষজ্ঞ দল বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ দলের সহযোগিতায় সম্প্রতি ইছামতী নদী দখলমুক্ত করে পানিপ্রবাহ সচল প্রকল্পের সম্ভাব্য যাচাই সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্প প্রণয়ন সম্পন্ন হলে নদী খননের কাজ শুরু হবে। জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন বলেন, ‘আমরা অবৈধ দখলদারদের চিহ্নিত করেছি, অচিরেই নদী কমিশন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে সঙ্গে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত