ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির উপকণ্ঠের একটি গোশালা গোপাল গাউ সদন। আক্ষরিক অর্থেই এটি বয়স্ক গরুদের আবাস। ছয় মাস আগে গোশালাটির ব্যবস্থাপক ঘোষণা দিতে বাধ্য হন যে, তিনি আর কোনো প্রাণীর দায়িত্ব নিতে পারবেন না।
দি ইনডিপেনডেন্টের খবরে জানানো হয়, গোপাল গাউ সদনের ১৬ একর জমিতে গাদাগাদি করে চার হাজারের বেশি গরু রাখা হয়েছে। সম্প্রতি দিল্লি নগর কর্র্তৃপক্ষের কাছে লেখা চিঠিতে গোশালাটির পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা রাস্তায় দিগি¦দিক ঘুরতে থাকা গরুগুলোকে আশ্রয় দিতে পারছে না। বৃহত্তর দিল্লিতে সরকারি-সহায়তা পাওয়া পাঁচটি গোশালার সবগুলোতেই একই অবস্থা।
২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশজুড়েই বেওয়ারিশ গরু নিয়ে সংকট তৈরি হয়। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ভারতের রাজধানীতে ৬০ হাজারের বেশি বেওয়ারিশ গরু রয়েছে। দিল্লিতে প্রায়ই রাস্তার মাঝখানে চোখে পড়ে বেওয়ারিশ গরু। প্রাণীগুলোর কারণে রিকশা, গাড়ি এমনকি বাসও দাঁড়িয়ে যেতে বাধ্য হয়।
মালিকহীন এই গরুগুলো ঘাস কিংবা স্বাভাবিক খাবার খাওয়ার সুযোগ পায় না। অন্যান্য প্রাণীর মতো আবর্জনা থেকে খাবার বাছাইয়ের দক্ষতাও নেই এগুলোর। ফলে প্রতিনিয়ত পলিথিন, কাচ, রাবার ও অন্য ক্ষতিকর অখাদ্য যাচ্ছে তাদের পেটে।
কোথাও কোথাও এমন ঘটনাও পাওয়া গেছে যে, অস্ত্রোপচারের সময় একটি গরুর পেট কেটে বের করা হয়েছে ৮০ কেজি প্লাস্টিক। এ বিষয়ে দিল্লির অন্যতম বৃহৎ শ্রীকৃষ্ণ গোশালার প্রধান পশু চিকিৎসক শওকত বলেন, রাস্তা থেকে ধরে আনা একটি গরুও পাওয়া যায়নি, যার পেটে পলিথিন নেই। তিনি আরও বলেন, একটি গরু ২৫ কেজি প্লাস্টিক খেলে তার পরিপাক ক্রিয়ায় সমস্যা অনুভূত হতে থাকে। প্রথমে গরুগুলো খাওয়া বন্ধ করে দেয়। পরে মলত্যাগও বন্ধ হয়ে যায়। এ অবস্থায় প্লাস্টিক অপসারণে দ্রুত অস্ত্রোপচার করতে হয়। সে অস্ত্রোপচারে বাঁচে না অনেক প্রাণী।
