সড়কে কোমর সমান কাদা পানি!

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১২:১৯ পিএম

জেলার সাটুরিয়া-গোপালপুর সড়কের সকল যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। রোববার থেকে গোপালপুর হাটের সামনের সড়কে কোমর পর্যন্ত কাদা পানি হয়ে যায়। এ সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। সড়কটি জেলার দৌলতপুর-সাটুরিয়া উপজেলার সংযোগ সড়ক হিসেবে ব্যবহার হওয়ায় হাজার হাজার পথচারী সীমাহীন দুর্ভোগে পড়ছেন।

সাটুরিয়া উপজেলার বরাইদ ইউনিয়নে অবস্থিত গোপালপুর বাজার। এ হাট ঘেঁষেই ধলেশ্বরী নদী অবস্থিত। বিভিন্ন কারণে জেলার অন্যতম প্রধান সড়ক এ সাটুরিয়া-গোপালপুর সড়ক। ৪-৫ বছর ধরে গোপালপুর হাটের সামনে পিচ উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির সময় পানি দিয়ে ভরে থাকে। এতে যানবাহন প্রায় উল্টে যেত। সাইকেল ও মোটরসাইকেল আরোহী প্রায় দুর্ঘটনা ঘটত। এ বছর গর্তের পরিমাণ আরও বেড়ে গেছে। গেল কয়েক দিনের বৃষ্টির পানিতে ভরে গেছে। গত রোববার থেকে গোপালপুর হাট সড়কে যানচলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।

সাটুরিয়া-গোপালপুর সড়কে বন্ধ থাকায় সাটুরিয়া-দৌলতপুর উপজেলার অন্তত ২০ গ্রামের মানুষের সীমাহীন দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। এ সড়ক ঘেষেই উপজেলার অন্যতম প্রধান হাট হচ্ছে গোপালপুর হাট। এ সড়ক পথেই গোপালপুর উচ্চ বিদ্যালয়, গোপালপুর সহকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শত শত শিক্ষার্থী চলাচল করে।

গোপালপুর হাটের ব্যবসায়ী বাদশা বলেন, আমাদের হাটের সামনের সড়কে কোমর পানি জমে থাকে। বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। সারা বছর ধুলাবালিতে কষ্ট করে আসতে পারলেও গত কয়েক দিনের বৃষ্টির পানিতে এখন বিপজ্জনক হয়ে গেছে। যান চলাচল বন্ধ থাকায় সবচেয়ে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।

image

হালিম নামে ডিম ব্যবসায়ী বলেন, এ সড়কটি বন্ধ থাকায় আমাদের বেচাকেনা কমে গেছে। এই যুগে একটি বৃহৎ হাটের সামনের সড়কে কোমর পর্যন্ত গর্ত তা মানতে কষ্ট হয়।

স্থানীয় ঠান্ডু বলেন, এ সড়কটি দৌলতপুর-সাটুরিয়া উপজেলার সংযোগ সড়ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তা ছাড়া বরাইদ ইউনিয়ন ধানসহ বিভিন্ন শস্য উৎপাদনে বিখ্যাত। গোপালপুর হাটের সামনের সড়কটি গর্তে পানি জমে থাকায় এসব পণ্য এ হাটসহ জেলা শহরে নিতে আমাদের অতিরিক্ত টাকা খরচ করতে হচ্ছে।

গোপালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মো. আপেল মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এ সড়ক দিয়ে ২টি বিদ্যালয় ছাড়াও সাটুরিয়া সৈয়দ কালুশাহ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের শিক্ষার্থীদের চলাচল করে। ফলে তাদের সীমাহীন দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, এ সড়কের গোপালপুর হাটের পূর্ব অংশে সংস্কার করার জন্য ২ টন টি আর বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু টাকা দিয়ে মাত্র ২/৩ ট্রাক ভিটেমাটি ফেলা হয়েছে। এখন বৃষ্টি হওয়ায় তা ঢলে চলে গিয়ে কোমর পর্যন্ত গর্ত সৃষ্টি হয়েছে।

এ ব্যাপারে বরাইদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো.হারুন অর রশিদ বলেন, এটি সংস্কার করার জন্য টিআরের ৬০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর বিল এখনও ওঠানো হয়নি। কিছু মাটি ও সুরকি ফেলানোর পর বৃষ্টিতে এ অবস্থা হয়েছে। বাকি কাজ করলে এ সমস্যা থাকবে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত