দরিদ্রতম ৫ শতাংশ মানুষের উন্নয়নে নজর সরকারের : পরিকল্পনামন্ত্রী

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১১:৪৬ পিএম

দারিদ্র্যসীমার সবচেয়ে নিচে অবস্থান করা ৫ শতাংশ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে জোর দেওয়ার তথ্য জানিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, জনপ্রতিনিধি ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর সহায়তায় তাদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এ সব কথা বলেন।

তিনি বলেন, অতি দরিদ্রদের জন্য চলমান বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পাশাপাশি নতুন কর্মসূচি নেওয়া হবে।  পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নতির ধারাবাহিকতার জন্য বিদেশে বিনিয়োগ প্রয়োজন। তাই বিদেশি বিনিয়োগ দরকার, তবে তা যে কোনো মূল্যেই হতে হবে এমন নয়। এ ক্ষেত্রে দেশি সম্পদ ও বিনিয়োগ প্রধান্য পাবে। সরকারের পছন্দ দেশজ বিনিয়োগ, যা দেশের ভেতর থেকে উঠে আসবে।  এম এ মান্নান আরও বলেন, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা তাদের বিভিন্ন বিষয়ে মতামত তুলে ধরেছেন।

এ দেশের প্রবৃদ্ধি নিয়ে তারা খুশি। তবে কিছু বিষয়ে তাদের প্রশ্ন রয়েছে। যেমন, দেশের প্রবৃদ্ধি অনুপাতে যথেষ্ট কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারছে কি না; শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের ব্যয় যথেষ্ট কি না। আবার উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের গতি নিয়েও তাদের কিছুটা আপত্তি রয়েছে। প্রকল্পের গতি বাড়ানো, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হ্রাস করাÑ এ বিষয়ে তারা সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এম এ মান্নান বলেন, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন গতি বাড়াতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রয়েছে। এটা কমানোর জন্য কাজ করছে সরকার। সরকারের কৌশল পরিবর্তন করব না, চলমান কৌশলে ভালো সফলতা এসেছে। দারিদ্র্যসীমার সবচেয়ে নিচে থাকা ৫ শতাংশ মানুষ চিহ্নিত করে তাদের দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দেওয়া হবে। এ শ্রেণির মানুষের জন্য জরিপ করছে বিবিএস (বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো)।

স্থানীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে দরিদ্র মানুষকে চিহ্নিত করে উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রবৃদ্ধি বাড়লেই দারিদ্র্য হ্রাস পাবে। এক্ষেত্রে বিবিএস শক্তিশালী করতে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা কারিগরি সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসতে চায়। সবার জন্য বাংলাদেশের দরজা খোলা রয়েছে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘ আবাসিক সমন্বয়কারী মিয়া সেপ্পো বলেন, সরকারের অগ্রাধিকার পাওয়া টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) বিভিন্ন বিষয়ে সহায়তার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এসডিজি বাস্তবায়নের অর্থ হচ্ছে, কেউ পিছিয়ে থাকবে না। এক্ষেত্রে দেশের সবচেয়ে দরিদ্র ৫ শতাংশ নাগরিককে কীভাবে দরিদ্র অবস্থা থেকে বের করে আনা যায়, সরকারের সে ইচ্ছা ও পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী।  জাতিসংঘের বাংলাদেশে আবাসিক সমন্বয়ক মিয়া সেপ্পোর নেতৃত্বে ইউএনডিপি, ইউএনএফপিএ, এফএও, ডব্লিওএইচও, আইএলওসহ বিভিন্ন সংস্থার ঢাকা অফিসের শীর্ষ ব্যক্তিরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত