ট্রেসেমে বাংলাদেশ ফ্যাশন উইক

জমকালো ও চমকানো ফ্যাশন শো

আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০১:৩৬ এএম

দেশ-বিদেশের ৩১ জন ডিজাইনারের নকশা করা পোশাক প্রদর্শন দিয়ে শেষ হলো ‘ট্রেসেমে বাংলাদেশ ফ্যাশন উইক ২০১৯’। দেশের ফ্যাশন ডিজাইনারদের সংগঠন ফ্যাশন ডিজাইন কাউন্সিল অব বাংলাদেশ (এফডিসিবি) ও ইউনিলিভারের হেয়ার কেয়ার ব্র্যান্ড ট্রেসেমে যৌথভাবে এই ফ্যাশন শোর আয়োজন করেছে। তিন দিনব্যাপী এই শো শুরু হয় গত ২৩ ফেব্রুয়ারি আর শেষ হয় ২৫ ফেব্রুয়ারি। রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরার ১ নম্বর হলে অনুষ্ঠিত এই ফ্যাশন শোতে দেশের ৭০ জন মডেল ক্যাটওয়াকে অংশ নেন।

এ আয়োজন নিয়ে এফডিসিবির সভাপতি ও ডিজাইনার মাহিন খান বলেন, ‘ডিজাইনারদের নকশা করা পোশাক সারা বিশ্বেই সমাদৃত। ফ্যাশন উইকের ধারণা তো বিশ্বের বড় শহরগুলোতে প্রতিষ্ঠিত। ফ্যাশন উইকের মাধ্যমে স্থানীয় নকশা সহজেই আন্তর্জাতিক পরিম-লে ছড়িয়ে পড়বে। আমাদের অনেক ডিজাইনারের কাজ আন্তর্জাতিক মানের। তাদের কাজের পরিচিতি বাড়বে। এ ছাড়া দেশি-বিদেশি ডিজাইনারদের একটা মেলবন্ধন ঘটবে।’

পরিবেশবান্ধব পণ্যের দিকে ঝুঁকছে পৃথিবী। এই ফ্যাশন উইকে যেসব পোশাক দেখানো হয়, তা দেশীয় আবহাওয়া ও পরিবেশ উপযোগী। আর নকশা হিসেবে দেশজ উপাদান ব্যবহার করছেন ডিজাইনাররা। এ ছাড়া দেশীয় ডিজাইনাররা ইতিহাস ও ঐতিহ্য থেকে পোশাকের অলংকরণ বাছাই করছেন পোশাকের মোটিফে।

গত শনিবার ফ্যাশন শোর শুরুতেই চমক দেখালেন দেশি ফ্যাশন ডিজাইনাররা। এই চমক দেখান দেশি কাপড় ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক মানের পোশাকের নকশা করে। এ বছর যেসব নকশা চলবে বিশ্ববাজারে, তারই একঝলক দেখা গেল ডিজাইনারদের নকশা করা পোশাকে। ওই দিন সন্ধ্যা ৭টায় ফ্যাশন উইকের উদ্বোধনী পর্বে বাহান্নর ভাষাশহীদদের পাশাপাশি সম্প্রতি ঢাকার চকবাজারের অগ্নিকা-ে নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে সবাই দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানান। এফডিসিবির সভাপতি ডিজাইনার মাহিন খান সবাইকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের এই অঞ্চলের পোশাকের খ্যাতি অনেক পুরনো। পোশাকে নতুন ধারার নকশা বিদেশিদের নতুনভাবে পরিচয় করিয়ে দিতেই এই ফ্যাশন শোর আয়োজন করা হয়েছে।’

প্রথম দিনের ফ্যাশন শো শুরু হয় ভারতের ডিজাইনার পারমিতা ব্যানার্জির পোশাক দিয়ে। আর শেষ হয় বাংলাদেশের লিপি খন্দকার, মালদ্বীপের আয়শাত শামলা ও নেপালের আনু শ্রেষ্ঠার পোশাক প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে। এরপর শোতে বাংলাদেশি ডিজাইনার হুমায়রা খান, রিফাত রেজা, সারাহ করিম, সাদিয়া মিশু, রিমা নাজ, মুশাররাত রহমানের নকশা করা পোশাক দেখানো হয়। কারও নকশায় ছিল ফুলেল আবহ, কেউবা অনুপ্রেরণা নিয়েছেন ময়ূরের কাছ থেকে। ডিজাইনার রিমা নাজের পোশাকের বিষয় ছিল মিলিটারি ফ্যাশন। সারা বিশ্বে এ বিষয় বেশ জোরালো এবার। অধিকাংশ ডিজাইনারের পোশাকের সংগ্রহ গরমের উপযুক্ত। এ ছাড়া বিয়ের মতো জমকালো অনুষ্ঠানের পোশাকও ছিল এই ফ্যাশন শোতে। ফ্যাশন কিউয়ের শুরুতে ট্রেসেমের সৌজন্যে একঝাঁক মডেল মঞ্চ মাতিয়ে যান চুলের বাহারি সাজ দেখিয়ে। তাদের চুলে ছিল লাল রঙের আবহ। তৃতীয় দিনে শোতে অংশ নেওয়া বাংলাদেশের ডিজাইনার এমদাদ হক তার নকশা করা পোশাকের থিম সম্পর্কে বলেন, তার কাজের ভাবনা ছিল মানুষের জীবন পরিক্রমা। ছাত্রজীবন কর্মজীবন ও শেষ জীবন এই তিন পরিক্রমায় রং পাল্টায়।  এটাকে উপজীব্য করে পোশাকের নকশা করেছেন। আর থিম রং হিসেবে বেছে নিয়েছেন কালো। উল্লেখ্য, হেয়ার কেয়ার ব্র্যান্ড ট্রেসেমে লাল, সোনালি ও কালো এই তিনটি রং ছিল ফ্যাশন শোর থিম রং। ফ্যাশন শো প্রদর্শিত পোশাক নিয়ে মার্চ মাসের ১ ও ২ তারিখ হোটেল গার্ডেনিয়ায় পোশাক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত