নারায়ণগঞ্জে লিটন হত্যা মামলায় ৩ আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আদেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার সকালে নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত (জেলা ও দায়রা) জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক শেখ রাজিয়া সুলতানা এ আদেশ দেন। ১১ জনের সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে এ রায় প্রদান করা হয়েছে।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন মো. রফিক, হাবিব ওরফে হাবলা ও পলাতক আসামি মো. শরিফ মিয়া। রায় ঘোষণার সময় মো. রফিক ও হাবিব ওরফে হাবলা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
রায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পিপি কে এম ফজলুর রহমান বলেন, এ রায়ে আমরা খুশি। আদালত সকল দিক বিবেচনা করে একটি চূড়ান্ত রায় প্রকাশ করেছে। এছাড়া হাইকোর্টের অনুমোদন সাপেক্ষে এ রায় ঘোষণা করা হয়েছে।
রায় ঘোষণার পর ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রফিকের স্ত্রী রুমা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমি এ রায় মানি না। আমার স্বামী সম্পূর্ণ নির্দোষ বিনা কারণে ১০ বছর ধরে জেলহাজতে রয়েছে। আমি এখন সন্তানদের নিয়ে কি করবো।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টায় পূর্বশত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করার উদ্দেশ্যে রফিক, হাবিব ও শরিফ সদর থানার নিতাইগঞ্জ মন্দিরের সামনে থেকে লিটনকে ডেকে নিয়ে খাল ঘাটের পরিত্যক্ত একটি বিল্ডিংয়ের ছাদে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। তার ডাকচিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে আসলে ঘাতকরা পালিয়ে যায়।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় লিটনকে ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে রেফার্ড করেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় লিটন মৃত্যুবরণ করেন।
এ ঘটনায় নিহত লিটনের ভাই সিরাজ মিয়া ৩জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পরে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হলে আসামি রফিক ও হাবলা ঘটনার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।
