নড়াইলে গত তিন দিনের বৃষ্টি, শিলা বৃষ্টি ও ঝড়ে নড়াগাতী থানার অরুনিমা রিসোর্টে অন্তত তিন হাজার দেশি বক ও অতিথি পাখি মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, গত সোমবার থকে বুধবার সকাল পর্যন্ত থেমে থেমে জেলার ওপর দিয়ে প্রবল বর্ষণ হয়। জেলার সীমান্তবর্তী বিছালী, কলোড়া, খড়রিয়া, পাঁচগ্রামসহ আট ইউনিয়নের ওপর দিয়ে শিলা বৃষ্টি ও ঝড় বয়ে যায়। ঝড়ে বেশ কিছু ঘরবাড়ি, কয়েক’শ গাছের ডাল ভেঙে পড়ে। এতে নড়াইল শহরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় বৈদ্যুতিক সংযোগ বিছিন্ন হয়ে যায়।
সদর উপজেলার গোবরা মিত্র মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ আনোয়ার হোসেন জানান, ঝড়ে কলেজের একটি টিনশেড চাল উড়ে গেছে।
নড়াগাতী থানার পর্যটনকেন্দ্র অরুনিমা রিসোর্ট গলফ ক্লাবের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইরফান আহম্মেদ জানান, সোম ও মঙ্গলবার রাতে শিলা বৃষ্টি ও ঝড়ে রিসোর্টের বিভিন্ন গাছে আশ্রয় নেওয়া অন্তত তিন হাজার দেশি বক ও অতিথি পাখি মারা গেছে। নিরাপদ আশ্রয়স্থল হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে এখানে দেশি পাখির পাশাপাশি অতিথি পাখির অভয়ারণ্য গড়ে ওঠে।
তিনি জানান, এই পাখি দেখার জন্য দেশ-বিদেশের পর্যটকরা অরুনিমা রিসোর্টে অবস্থান করে থাকে। ২০০৪ সাল থেকে প্রতি বছরই শীত মৌসুমসহ বছরের আট মাস বিভিন্ন প্রজাতির পাখির কলতানে মুখরিত হয় এই পার্কটি। এ বছরও মৌসুমের শুরুতেই (অক্টোবরের প্রথম থেকে) অতিথি পাখির কলতানে মুখরিত হয়ে উঠে। এখানে বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন বিকেলে বক, হাঁসপাখি, পানকৌড়ি, শালিক, টিয়া, দোয়েল, ময়না, মাছরাঙা, ঘুঘু, শ্যামা, কোকিল, টুনটুনি, চড়ুইসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির পাখি গাছের ডালে আশ্রয় নেয়।
ইরফান আহম্মেদ বলেন, রাত যত গভীর হয় পাখিদের আসা বাড়তে থাকে। সারা রাত পাখির কলতানে মুখরিত থাকে পুরো এলাকা। দেশি-বিদেশি পাখি যাতে কেউ মারতে না পারে সে জন্য অরুনিমা রিসোর্টের নিরাপত্তাপ্রহরীরা পাহারা দিয়ে রাখে। রিসোর্টটি প্রতিষ্ঠার পর এত বড় ক্ষতি আগে কখনো হয়নি। মৃত পাখিগুলি রিসোর্টের কর্মচারীদের নিয়ে মাটিচাপা দিয়ে রাখা হয়েছে।
এদিকে জেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপপরিচালক চিন্ময় রায় জানান, তিন দিনের টানা বৃষ্টি ও শিলা বৃষ্টিতে ডাল, গম, পেঁয়াজ, তরমুজসহ বিভিন্ন শাক-সবজির মোটামুটি ক্ষতি হয়েছে। এ বৃষ্টিতে কমপক্ষে ১০ ভাগ ফলন কম হবে হবে জানান।
