বৃষ্টিতে ভেসে গেল আলু চাষিদের স্বপ্ন

আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০২:৫৫ পিএম

টানা কয়েক দিনের শিলা বৃষ্টি ও ভারী বর্ষণে চাঁদপুরে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে আলু চাষিরা। এ বছর আলুর ফলন ভালো হলেও এই বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আলু। অধিকাংশ কৃষকের আলু পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে করে পচন দেখা দিয়েছে আলুতে। পানির নিচ থেকে এখন আলু তুলতে ব্যস্ত সময় পাড় করছে কৃষকরা। ফলন ভালো হলেও বৃষ্টিপাতে ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে কৃষকদের। আলু চাষ করে লাভবান হওয়ার বদলে এখন কোনো মতে চালান তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে কৃষকদের।

বৃষ্টির পানিতে ডুবে থাকা আলু বেশি দিন সংরক্ষণ করা সম্ভব নয় বলে জানান কৃষকরা। এতে করে বাধ্য হয়ে আলু চাষিদের কম মূলে বাজারে আলু বিক্রি করতে হবে বলে জানান তারা। ফলে আলু চাষে যে পরি মান খরচ হয়েছে তা তুলতে পারবে কিনা তা নিয়ে কৃষকদের কপালে দেখা দিয়েছে চিন্তার ভাঁজ।

চাঁদপুর সদর উপজেলার বাবুরহাট এলাকার আলু চাষি আলী মিয়া বলেন, এ বছর আলুর ব্যাপক ফলন হয়েছিল। কিন্তু অধিক বৃষ্টিপাতের কারণে আমরা এই ফলন ঘরে তুলতে পারিনি। প্রতিটি কৃষকের আলুই পানির নিচে ডুবে আছে। এতে করে এই আলু আর সংরক্ষণ করা যাবে না। তাই আমাদের বাধ্য হয়েই কম দামে বাজারে বিক্রি করতে হবে। আমাদের সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। যারা লাখ লাখ টাকা খরচ করে আলু চাষ করেছে, তাদের এখন খরচ তুলে আনাই কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

চাঁদপুর বাগাদী এলাকার কয়েক জন কৃষক বলেন, এই নিয়ে টানা তিন বছর আলু চাষ করে আমাদের লোকসান হয়েছে। আলু তোলার সময়টাতেই বৃষ্টি হওয়াই প্রতি বছরই আমাদের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। এভাবে চলতে আর আমরা আলু চাষ করতে পারবো না। জানি না কীভাবে ঋণের টাকা পরিশোধ করবো।

চাঁদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ আব্দুর রশিদ বলেন, বৃষ্টিপাতে চাঁদপুরের প্রায় ১০ শতাংশ আলু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃষ্টি আরও দু’একদিন হলে এই ক্ষতি আরও বাড়বে। আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি যাতে করে তারা অতি দ্রুত আলু উত্তোলন করে বিক্রি করে দেয়। বৃষ্টির পানিতে ভিজায় এই আলু কোল্ড স্টোরেজেও সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে না।

তিনি বলেন, আমরা সরকারের নিকট আবেদন জানাবো, যাতে করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ভর্তুতির ব্যবস্থা করা হয়।

এ বছর জেলায় মোট ৮ হাজার ৮৩৫ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে মতলব দক্ষিণ উপজেলায় সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৬৫ হেক্টর এবং শাহারাস্তি উপজেলায় সর্বনিম্ন ২৫ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়।

এছাড়া চাঁদপুর সদরে ১ হাজার ৭৩৫ হেক্টর, মতলব উত্তরে ৬৫০ হেক্টর, হাজীগঞ্জে ৮৪০ হেক্টর, কচুয়ায় ২ হাজার ২৬০ হেক্টর, ফরিদগঞ্জে ৯৫ হেক্টর ও হাইমচর উপজেলায় ১৬৫ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত