৯ বছরেও শেষ হয়নি ৩২১ ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভাঙার কাজ

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০১৯, ০৩:১২ এএম

নয় বছর আগে রাজধানীতে ৩২১টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করা হলেও এ পর্যন্ত মাত্র ৬৬টি ভবন ভাঙা ও পুনর্নির্মাণের কাজ হয়েছে। বাকি ২৫৫টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন এখনো রয়ে গেছে। এর মধ্যে ৩৫টি ভবন অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত। বাকি ২২০টি বাহ্যিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। মন্ত্রী জানান, রাজধানীতে মোট ৬ হাজার ৪০৯টি পরিত্যক্ত বাড়ি রয়েছে।

গতকাল সোমবার সংসদে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম আরও জানান, ২০১০ সালে রাজউক ৩২১টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করেছিল। ২০১৬ সালে রাজউক উক্ত ৩২১টি ভবনে আবার জরিপ করে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর মধ্যে মালিকরা এরই মধ্যে ২৫টি ভবন ভেঙে ফেলেছেন। ২৮টি ভবন মালিকরা নতুনভাবে নির্মাণ করেছেন। মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ২৫৫টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন রয়েছে, যার মধ্যে ৩৫টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ। সরকারের সংশ্লিষ্ট আন্তঃমন্ত্রণালয় সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে ওই ভবনগুলো চূড়ান্তভাবে ঝুঁকিপূর্ণ নিশ্চিতকরণ সাপেক্ষে সেগুলো ভেঙে ফেলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। মন্ত্রী আরও জানান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়-সংস্থার প্রতিনিধিগণের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ বিষয়ে কার্যক্রম চলমান আছে।

আরেক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প এলাকায় ২০০৩-২০১৯ সাল পর্যন্ত ৩, ৫, ৭.৫ ও ১০ কাঠা আয়তনের মোট ২৪ হাজার ৬৯৬টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ওই প্লটগুলো মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও সমমর্যাদাসম্পন্ন, বিচারপতি, মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক, সরকারি চাকরিজীবী, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য, ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি, বেসরকারি চাকরিজীবী, শিল্প-সাহিত্য ও ক্রীড়াবিদ, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী, মূল অধিবাসী, ক্ষতিগ্রস্ত এবং ১৩/এ ধারা (সংরক্ষিত) ক্যাটাগরিসহ অন্যান্যকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

গণপূর্তমন্ত্রী জানান, পূর্বাচল নতুন শহর এলাকায় কমবেশি ১৫ হাজার জনকে চূড়ান্তভাবে প্লট বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রকল্প উন্নয়ন কাজ চলমান থাকায় অবশিষ্ট প্লট বরাদ্দ গ্রহীতাদের বুঝিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে ২০১৯ সালের মধ্যে প্রকল্পের উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পন্ন করে অবশিষ্ট বরাদ্দ গ্রহীতাদের অনুকূলে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

মন্ত্রী বলেন, রাজউকের বিভিন্ন প্রকল্পে স্বজনদের অনুকূলে প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে ২০০৮ সালের পর রাজউকের বোর্ড সভার সিদ্ধান্তের আলোকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যেকোনো একজন একটি প্লট বরাদ্দ পাবেন। যা কেইস টু কেইস বিশ্লেষণ করে সমাধান করা হচ্ছে। তবে, ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্পে স্ত্রী কর্মজীবী ও টিআইএনধারী হলে উভয়েই প্লট বরাদ্দ পেতে পারেন মর্মে সিদ্ধান্ত আছে। টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নের জবাব থেকে জানা যায়, রাজধানীতে পরিত্যক্ত বাড়ি ৬ হাজার ৪০৯টি। এসব বাড়ি শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং ডিমান্ড নোট হোল্ডারদের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দকৃত বাড়ির মধ্যে কয়েকটি শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, বরাদ্দ প্রাপক ও ডিমান্ড নোট হোল্ডারদের অনুকূলে বিক্রয় করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত