ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলে প্রায় ১২০০ ছাত্র বসবাস করলেও পাঠকক্ষ মাত্র একটি। এখানে বসার ৬০টি আসন রয়েছে। ফলে পড়ার জন্য জায়গা পেতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে চলে প্রতিযোগিতা। বসার আসন পেলেও স্বস্তি নেই। চেয়ার-টেবিলগুলো ভাঙাচোরা। টেবিল খুব কাছাকাছি থাকায় পড়ায় ব্যাঘাত ঘটে। এ ব্যাপারে প্রশাসনকে বলা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ। আসন্ন ডাকসু নির্বাচনে হল সংসদের প্রার্থীরা এই সমস্যার সমাধান করবেন বলে শিক্ষার্থীদের আশা। ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আবাসন সংকট, গণরুমে মানবেতর জীবনযাপন, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের কক্ষ বরাদ্দ না থাকা, হলের ছোট অতিথি কক্ষ এবং সঙ্গে ওয়াশরুম না থাকা, বেশ কিছু কক্ষে কর্মচারী থাকা, হলের সামনে বিশৃঙ্খলভাবে গাড়ি পার্কিং ও ক্রীড়াকক্ষ না থাকা এখানকার মূল সমস্যা।
জানতে চাইলে আবাসিক শিক্ষার্থী আব্দুল বারিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হলের রিডিং রুমে মারাত্মক সিট সংকট। এত শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র একটি রিডিং রুম। ৫ মিনিটের জন্য পড়া থেকে উঠলে আর সিট পাওয়া যায় না। রিডিং রুমের টেবিল-চেয়ারগুলো পড়ার উপযুক্ত না।’ একই অভিযোগ কামরুল ইসলামের। তিনি বলেন, ‘হলের দুইটি ব্লক। একটি ব্লকে রিডিং রুম থাকলেও অন্য অংশে নেই। এত শিক্ষার্থীর জন্য এত অল্প সিটের রিডিং রুম কোনোভাবে হয় না।’
শিক্ষার্থীরা জানান, ছাত্রদের সংকট থাকলেও প্রায় ১০টি কক্ষে কর্মচারীদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রশাসন চাইলে কর্মচারীদের অন্য জায়গায় পাঠিয়ে এই সংকট দূর করতে পারে। অফিস সূত্রে জানা যায়, হলে ৪৮৫টি আসন থাকলেও অবস্থান করছেন ১২০০ এর বেশি শিক্ষার্থী।
এই হলের শিক্ষার্থীরা বিতর্ক, কুইজ ইত্যাদি প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকলেও ছোট্ট একটি কক্ষেই বিতর্ক ক্লাব, কুইজ ক্লাব, বিনামূল্যে রক্তদান কার্যক্রম সংগঠন ‘বাধনের’ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়। এছাড়া গণরুমে প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের শরণার্থীর মতো বসবাস, ফিল্টার পানি না থাকার কথা জানান শিক্ষার্থীরা। এজন্য হল কর্র্তৃপক্ষের তদারকির অভাব বলে মনে করেন তারা।
জানতে চাইলে ছাত্রলীগ প্যানেলের সহসভাপতি (ভিপি) প্রার্থী শরিফুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী আমরা প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করব।’ ছাত্রদল ভিপি এবং জিএস পদে প্রার্থী দিয়েছে। ছাত্রদল থেকে ভিপি প্রার্থী তারেক হাসান বলেন, ‘অসহায় শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি, সিট সংকট দূর ও রিডিং রুমের আসন বৃদ্ধির জন্য কাজ করব।’ হলে মোট ১৩টি পদের মধ্যে ৬টিতে বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়েছে ছাত্রলীগের ৬ জন। অভিযোগ আছে, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জোর করে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করানো হয়েছে।
