রোববার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বিশ্বে এইচআইভিমুক্ত হলেন দ্বিতীয় ব্যক্তি

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০১৯, ০৩:৩০ এএম

মরণব্যাধি এইডসের ভাইরাস এইচআইভিমুক্ত হলেন যুক্তরাজ্যের এক নাগরিক। এই নিয়ে পৃথিবীতে তিনিই দ্বিতীয় ব্যক্তি, যিনি চিকিৎসাবিজ্ঞানের বদৌলতে এইচআইভিমুক্ত হলেন। গতকাল মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানবিষয়ক জার্নাল ‘ন্যাচার’-এ এইচআইভিমুক্ত-সংক্রান্ত একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হলে তা বিশ্বের অধিকাংশ মিডিয়া গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি প্রকাশ করে। নিবন্ধটি মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলের চিকিৎসাবিষয়ক এক সম্মেলনে উপস্থাপন করা হয়। নিরাপত্তার কারণে রোগীর নাম-পরিচয়, বয়স ও জাতীয়তা গোপন রাখা হয়েছে। তার নাম দেওয়া হয়েছে ‘লন্ডন প্যাশেন্ট’ অর্থাৎ লন্ডনের রোগী। বিশ্বে বর্তমানে তিন কোটি ৭০ লাখ মানুষ এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত। ‘বার্লিন পেশেন্ট’ নামে প্রথম রোগী এইচআইভিমুক্ত হওয়ার ১০ বছরের মাথায় দ্বিতীয় এই ব্যক্তি প্রাণঘাতী এইচআইভি  ভাইরাসমুক্ত হলেন। উভয় রোগীকেই অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে এইচআইভিমুক্ত করা হয়েছে বলে জানা যায়। প্রতিস্থাপনের পর ১৮ মাস কেটে গেলেও ওই রোগীকে কোনো থেরাপি বা ওষুধ খেতে হয়নি।

প্রকাশিত নিবন্ধে বেশ কয়েকজন বিজ্ঞানী অভিমত প্রকাশ করে জানান, লন্ডন প্যাসেন্ট নামের ওই রোগী এইডসের ভাইরাল ইনফেকশন থেকে এখন মুক্ত। তাদের এমন পদ্ধতি বিশ্বে তিন কোটি ৭০ লাখ এইডস আক্রান্ত রোগীর ওপর প্রভাব ফেলবে। এমন সাফল্য মানুষকে এইডস নির্মূলে আশাবাদী করে তুলবে বলেও জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

গবেষকদলের নেতৃত্বে আছেন ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক রবীন্দ্র গুপ্তা। তিনি রোগীর শরীর থেকে এইচআইভি ভাইরাস নির্মূলের খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘আগের পদ্ধতি ব্যবহার করে দ্বিতীয় একজনকে এইচআইভি থেকে উপশম করা সম্ভব হয়। তবে এ সাফল্যের মানে এই নয় যে, এইচআইভি থেকে আরোগ্য লাভের চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়েছে। এ ঘটনার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে, বিজ্ঞানীরা একদিন এইডস নির্মূল করতে পারবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি ও আমার সহকর্মীরা ওই ব্যক্তির অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছি। তবে এখনই বলা সম্ভব হচ্ছে না যে তিনি সুস্থ হয়ে গেছেন। ২০০৭ সালে যে রোগীর শরীর থেকে এইচআইভি নির্মূল করা হয়েছিল তিনি এখন ভাইরাসমুক্ত।’ প্রতি বছর ১০ লক্ষাধিক মানুষ এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। এখন পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা যে পন্থায় এইচআইভি থেকে রোগীদের মুক্ত করার চেষ্টা করছেন, তার মূলে রয়েছে এই ভাইরাসকে দমিত করে রাখা। কিন্তু দমন করে রাখাই সমস্যার সমাধান নয় বলে মনে করেন বিজ্ঞানীরা।

দ্বিতীয় এই ব্যক্তি ২০০৩ সালে এইচআইভিতে আক্রান্ত হন এবং ২০১২ সাল থেকে থেরাপি ও প্রচলিত চিকিৎসা নিতে থাকেন। কেমোথেরাপির পরই তাকে অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের মধ্য দিয়ে যেতে হয় ২০১৬ সালে। প্রথম এইচআইভিমুক্ত রোগী টিমোথি রে ব্রাউনের মতো এখনো এই দ্বিতীয় রোগীকে নিয়মিত পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে।

গবেষক ও চিকিৎসক শ্যারন লেউইন জানান, প্রথম ঘটনার ১০ বছর পর আবারও একই পদ্ধতিতে এই রোগীকে এইচআইভিমুক্ত করা হয়েছে। এটা নিশ্চিত করে যে, সিসিআর৫-নেগেটিভ (জেনেটিক মিউটেশন) এইচআইভি ভাইরাসকে নতুন করে মাথাচাড়া দিতে বাধা দেবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত