‘ময়ুরপঙ্খী ছিনতাই চেষ্টায়’ ব্যবহৃত পিস্তলটি প্লাস্টিকের তৈরি খেলনা: সিআইডি

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০১৯, ০৮:৪৯ পিএম

বাংলাদেশ বিমানের ময়ূরপঙ্খী উড়োজাহাজ ছিনতাইয়ের চেষ্টাকারী যুবক পলাশ মাহমুদের কাছ থেকে উদ্ধার করা পিস্তলটি খেলনা পিস্তল বলে নিশ্চিত হয়েছে সিআইডি।

পিস্তলটি পরীক্ষার জন্য সিআইডির কাছে জমা দিয়েছিল মামলার তদন্তকারী সংস্থা কাউন্টার টেররিজম ইউনিট।

মঙ্গলবার পিস্তলটি সিআইডি কার্যালয়ে জমা দেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের পরিদর্শক রাজেশ বড়ুয়া।

সিআইডি চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিশেষ পুলিশ সুপার ড. নাজমুল করিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রাথমিক পরীক্ষায় পিস্তলটি বাংলাদেশের প্লাস্টিকের তৈরি খেলনা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এরপর সেটির ব্যালিস্টিক পরীক্ষা করে বিশেষজ্ঞ মত তদন্তকারী সংস্থার কাছে দেওয়া হবে। খালি চোখে দেখলেই এটা নিশ্চিত বোঝা যাবে যে এটি খেলনা পিস্তল। এরপরও যেহেতু এক্সপার্ট ওপিনিয়ন লাগবে, সে জন্য পিস্তলের ব্যালিস্টিক পরীক্ষা হবে। কয়েক দিনের মধ্যে আমরা এক্সপার্ট ওপিনিয়ন পাঠিয়ে দেব।

এর আগে, বিমান ছিনতাই চেষ্টার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সিএমপি কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমানও জানিয়েছিলেন, পিস্তলটি খেলনার।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় বাংলাদেশ বিমানের একটি উড়োজাহাজ ‘ময়ূরপঙ্খী’ (বোয়িং-৭৩৭) ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে দুবাই যাওয়ার কথা ছিল। বিকেলে ঢাকা থেকে উড্ডয়নের পর উড়োজাহাজটি ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে। এ সময় দু’জন কেবিন ক্রুকে জিম্মি করে রাখার কথাও বলা হয়। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বিমানটি চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

শ্বাসরুদ্ধকর উত্তেজনার মধ্যে সন্ধ্যার দিকে মাত্র ৮ মিনিটের কমান্ডো অভিযানে ছিনতাই কাণ্ডের অবসান ঘটে। অভিযানে ছিনতাইকারী নিহত হয়।

এ ঘটনার পর চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে যৌথ বাহিনীর সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, যুবকটিকে প্রথমে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছিল। আত্মসমর্পণ না করে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠায় একপর্যায়ে গোলাগুলিতে সে আহত হয়। এরপর মারা যায়। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, যুবকটির কাছে একটি পিস্তল ছিল।

পরবর্তী সময়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, ছিনতাইকারীর কাছে যে পিস্তলটি পাওয়া গেছে তা খেলনা পিস্তল। এই ঘটনায় সিভিল অ্যাভিয়েশনের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রযুক্তি সহকারী দেবব্রত সরকার বাদী হয়ে সোমবার রাতে পতেঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় নিহত যুবক পলাশ মাহমুদ ও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে পিস্তল ও বিস্ফোরক সদৃশ বস্তুসহ বেশ কিছু আলামত জমা দেয় র‌্যাব ও সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো টিম।

ব্যাংক কর্মকর্তা কাজী মশিউর রহমানের স্ট্যাটাসে বিমানের ভেতরে গুলি করার বিষয় উঠে আসায় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে- খেলনা পিস্তল থেকে ছিনতাইকারী গুলি করল কীভাবে? মামলার এজাহারেও গুলি করার কথা উল্লেখ নেই। এতে বলা হয়েছে, দুষ্কৃতকারী ওই সময় দুটি ফটকা জাতীয় বস্তুর বিস্ফোরণ ঘটায়। তার কাছে বোমা ও অস্ত্র সদৃশ বস্তু ছিল বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

আইন শৃঙ্খলা বাহিনীসহ বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, বিমান ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত পিস্তলটি ছিল প্লাস্টিকের তৈরি সাদামাটা খেলনা। আর বোমাটিও ছিল একেবারে কাঁচা হাতে তৈরি। এতে একটি ঘড়িও লাগানো ছিল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত