নির্বাচনী সহিংসতা ভাঙচুর গুলিবর্ষণ, আহত ৬

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০১৯, ০৯:৫৪ পিএম

নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ফজলুল হকের নির্বাচনী অফিস ও এক আওয়ামী লীগ নেতার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর হয়েছে। এ সময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চন্দন বিশ্বাস ব্যক্তিগত রিভলভার থেকে পাঁচ-ছয়টি ফাঁকা গুলি করেন।

 এ ঘটনায় উপজেলার কৈলাটী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাবিবুর রহমানসহ কমপক্ষে ছয়জন আহত হয়েছেন। তাদের প্রথমে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 

ক্ষমতাসীন দলের ‘বিদ্রোহী’ স্বতন্ত্র প্রার্থী ফজলুল হকের সমর্থক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান জানান, গত মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে কৈলাটী মোড়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী ফজলুল হকের নির্বাচনী অফিসে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চন্দন বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনসহ দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা বসে আলোচনা করছিলেন। এ সময় নৌকার প্রার্থী আবদুল খালেক তালুকদারের সমর্থক লুৎফুর রহমান, আবদুল খালেক মাস্টার ও শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান, আওয়ামী লীগ কর্মী সজল, হারেছ, ফেরদৌছ, সাদ্দাম আহত হন।

হামলাকারীরা স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী অফিসের চেয়ার, টেবিল ও ভাঙচুর করে। পরে কৈলাটী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাবিবুর রহমানের সার-কীটনাশকের দোকানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর চালায়। এ ঘটনার পর থেকে উভয় পক্ষের মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি জয়নাল আবেদীন জানান, হামলার পরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চন্দন বিশ্বাসের নেতৃত্বে আনারস প্রতীকের পক্ষে মিছিল বের করা হয়। এ সময় সমর্থকরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায়। গুলিবর্ষণের বিষয় স্বীকার করে কলমাকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চন্দন বিশ্বাস জানান, খালেক তালুকদারের সমর্থকরা তাদের লোকজনের ওপর হামলা চালালে নিজেদের বাঁচাতে কয়েকটি ফাঁকা গুলি করা হয়েছে।

কলমাকান্দা থানার ওসি মাজহারুল করিম জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী অফিসে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সম্পাদকসহ তাদের সমর্থকরা বসে আলোচনা করছিলেন। এ সময় প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের ওপর হামলা করে। আত্মরক্ষার্থে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কয়েকটি ফাঁকা গুলি করেন। নেত্রকোনা পুলিশ সুপার জয়দেব চৌধুরী জানান, আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত