ঢাকার ধামরাইয়ে সরকারদলীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা ও জনপ্রতিনিধি ছত্রছায়ায় থেকে রমরমা মাদক ব্যবসা করার অভিযোগ উঠেছে। ছোট নেতা থেকে শুরু করে বড় নেতা এমনকি পুলিশের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সঙ্গে এসব মাদক ব্যবসায়ীর সখ্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, এসব পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের কাছে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করে অনায়াসেই মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে একদল লোক। এতে যুবসমাজ ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে।
ধামরাইয়ের নবগ্রাম এলাকার এরশাদ হোসেন জানান, ওই গ্রামের মনা মিয়ার ছেলে মিজান হোসেন (৩৫) ও মোনছের আলীর ছেলে ওমর আলী (৩০) দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসা করে আসছে। গত বুধবার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি দল অভিযান চালিয়ে ৭০টি ইয়াবা বড়িসহ মিজান ও ওমর আলী আটক করে। এ ঘটনায় মিজানকে ধরে নিয়ে গেলেও ওমর আলীকে অজ্ঞাত কারণে ছেড়ে দেওয়া হয়। এর আগেও তারা একাধিকবার ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হলেও জেল থেকে বের হয়ে আবারও ব্যবসা শুরু করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এসব মাদক ব্যবসায়ী সরকারি দলের নেতাদের মিছিল-মিটিংয়ে গিয়ে তাদের সঙ্গে সখ্য তৈরি করে বিভিন্ন জায়গায় দলীয় পরিচয়ও দিচ্ছে। এ ছাড়াও তারা নিয়মিত ধামরাইয়ের কাওয়ালীপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির কর্মকর্তাদের সঙ্গে চলাফেরা করে সখ্য গড়ে তুলেছে। মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে তাদের মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়। তাই ভয়ে এলাকার কেউ তাদের বিপক্ষে কেউ মুখ খোলে না। উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম বলেন, ‘দলের নেতাদের মিটিং-মিছিল হইলে ভালো-মন্দ অনেককেই ডাকে। এর মধ্যে ইয়াবা সেবনকারী ও ব্যবসায়ীও থাকে। মিটিং-মিছিলে গিয়ে তারা বড় বড় নেতার সঙ্গে ছবি তুলে সেই ছবি আবার লোকজনকে দেখিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে থাকে। এর ফলে প্রশাসনও অনেক সময় ভয়ে তাদের কিছু বলে না। অনেক নেতা আবার স্বার্থের জন্য এসব মাদক ব্যবসায়ীদের শেল্টার দেয়।’
উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও আফাজ উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘ইয়াবা ব্যবসায়ীরা নিজেদের ব্যবসাকে টিকিয়ে রাখার জন্য নিত্যনতুন কৌশল ব্যবহার করছে। এদেরকে রুখে দেওয়ার জন্য প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় মাদকবিরোধী কমিটি করতে হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ সবাইকে মাদকের ক্ষতিকারক দিক সম্পর্কে সচেতন করা গেলেই মাদক ব্যবসায়ীদের প্রতিরোধ করা সম্ভব হতে পারে।’
ধামরাই সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘আমার ইউনিয়নের এক মেম্বারের ছেলেসহ বেশ কিছু মাদক ব্যবসায়ীকে বিভিন্ন সময়ে মাদকসহ ধরে পুলিশে দিয়েছি। এভাবে সবাই যদি নিজের অবস্থান থেকে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়, তবেই সমাজ থেকে মাদক দূর করা সম্ভব।
