পড়াশোনার জন্য শিশুদের চাপ দেবেন না : প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০১৯, ০২:৪৩ এএম

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, পড়া নিয়ে শিশুদের চেয়ে বেশি মা-বাবাদের প্রতিযোগিতা বেশি। তিনি শিশুদের পড়াশোনার জন্য অতিরিক্ত চাপ না দিতে অভিভাবক, শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে আমি এটুকুই বলব, কোনোমতেই যেন কোমলমতি শিশুদের অতিরিক্ত চাপ না দেওয়া হয়। তা হলেই দেখবেন তারা ভেতরে একটা আলাদা শক্তি পাবে। আর তাদের শিক্ষার ভিতটা শক্তভাবে তৈরি হবে।

গতকাল বুধবার সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ-২০১৯-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকা-ে শিক্ষার্থীদের বেশি বেশি সম্পৃক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।

কোমলমতিদের লেখাপড়ার কঠোর শৃঙ্খলে আবদ্ধ করাকে ‘এক ধরনের মানসিক অত্যাচার’ বলে অভিহিত করে তিনি বলেন, শিশুরা প্রথমে স্কুলে যাবে এবং হাসি খেলার মধ্য দিয়েই লেখাপড়া করবে।

শিশুদের পাঠদান সম্পর্কে নিজস্ব অভিব্যক্তি সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর অনেক দেশেই সাত বছরের আগে শিশুদের স্কুলে পাঠানো হয় না। কিন্তু আমাদের দেশে অনেক ছোটবেলা থেকেই বাচ্চারা স্কুলে যায়। কিন্তু তারা যেন হাসতে খেলতে মজা করতে করতে পড়াশোনাটাকে নিজের মতো করতে পারে, সেই ব্যবস্থাই করা উচিত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পড়’, ‘পড়’, ‘পড়’ বলাটা বা ধমক দেওয়াটা বা আরও বেশি চাপ দেওয়া হলে শিক্ষার ওপর তাদের আগ্রহটা কমে যাবে, একটা ভীতির সৃষ্টি হবে। শিক্ষার প্রতি সেই ভীতিটা যেন সৃষ্টি না হয়, সেজন্য আমি আমাদের শিক্ষক এবং অভিভাবকদের অনুরোধ করব।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক সময় আমরা দেখি প্রতিযোগিতা শিশুদের মধ্যে না হলেও বাবা-মায়ের মধ্যে একটু বেশি হয়ে যায়। এটাকেও আমি একটি অসুস্থ প্রতিযোগিতা বলে মনে করি।

তিনি বলেন, সব শিক্ষার্থীর সমান মেধা থাকবে না এবং সবাই সবকিছু একরকম করায়ত্ত করতে পারবে না। তবে যার যেটি সহজাতভাবে আসবে, তাকে সেটি গ্রহণ করার সুযোগ দেওয়া উচিত। শিক্ষাটাকে আপন করে নিয়ে সে যাতে শিখতে পারে, সে সুযোগ তাকে দিতে হবে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান বক্তব্য রাখেন।

প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক’ বিতরণ করেন এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকা-ের ওপর একটি ভিডিও চিত্রও প্রদর্শিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকা-ে শিক্ষার্থীদের বেশি বেশি সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এজন্য প্রত্যেক উপজেলায় সরকার একটি করে মিনি স্টেডিয়াম করে দিচ্ছে। পর্যায়ক্রমে শিশু-কিশোরদের মানসিক বিকাশের জন্য এই মিনি স্টেডিয়াম ইউনিয়ন পর্যায়েও করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী আজ টাঙ্গাইল যাচ্ছেন : কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা স্মারক স্বর্ণপদক প্রদান ও কুমুদিনী ট্রাস্টের ৮৬তম বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠানে আজ বৃহস্পতিবার প্রধান অতিথি হিসেবে টাঙ্গাইল যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ ভারতেশ্বরী হোমসের সবুজ চত্বরে এ অনুষ্ঠান হবে। ট্রাস্টের পরিচালক ভাষাসৈনিক প্রতিভা মুৎসুদ্দি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেলা ১১টা ২০ মিনিটে হেলিকপ্টারে করে কুমুদিনী কমপ্লেক্সে যাবেন। স্বর্ণপদক প্রদান করা ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী মির্জাপুরের বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করবেন। বিকেল ৩টায় তিনি মির্জাপুর ত্যাগ করবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে তার ছোট বোন শেখ রেহানা এবং মন্ত্রিপরিষদের একাধিক সদস্য উপস্থিত থাকবেন বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে মির্জাপুরসহ সারা টাঙ্গাইলে। বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে কুমুদিনী হাসপাতাল, ভারতেশ্বরী হোমস, কুমুদিনী উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজ, কুমুদিনী নার্সিং স্কুল অ্যান্ড বিএসসি নার্সিং কলেজসহ কুমুদিনী কমপ্লেক্সের সেবাধর্মী বিভিন্ন ইউনিট এমনকি পুরো মির্জাপুর উপজেলা।

কুমুদিনী হাসপাতালের মূল ভবনের দক্ষিণ পাশে সম্প্রতি নির্মাণ করা হয়েছে দানবীর রণদা প্রসাদ সাহার ম্যুরালসহ বিভিন্ন স্থাপনা। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে কুমুদিনী কমপ্লেক্সের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে উৎসবের আমেজ।

‘রণদা প্রসাদ সাহা স্মারক স্বর্ণপদক ২০১৯’-এ ভূষিত হচ্ছেন দেশের চার বরেণ্য ব্যক্তি। টাঙ্গাইলের কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা দানবীর রণদা প্রসাদ সাহার স্মরণে এ পদক দেওয়া হবে। এই চার বরেণ্য ব্যক্তি হলেনÑ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী (মরণোত্তর) এবং জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম ও শিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদ।

মির্জাপুর থানার ওসি একেএম মিজানুল হক জানান, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে কুমুদিনী কমপ্লেক্সসহ পুরো মির্জাপুরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ওইদিন বেশ কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত