জনতা ডেভেলপমেন্ট এন্ড টেকনোলজিস নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীদের কয়েক কোটি টাকা নিয়ে গা ঢাকা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এই প্রতিষ্ঠানে কয়েক কোটি টাকার সম্পদ ও নগদ টাকা লগ্নি করে পথে বসার উপক্রম লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ শহরের অর্ধশত ব্যবসায়ী, চাকরীজীবী ও প্রবাসীর।
ফার্মের মালিক সাড়ে ৪ বছরে দশ তলা মার্কেটটি নির্মাণ শেষ করার চুক্তিবদ্ধ হলেও দীর্ঘ ৯ বছরেও তিন তলার কাজ শেষ না করে কয়েক কোটি টাকা নিয়ে গা-ঢাকা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকরা।
রামগঞ্জ শহরের প্রানকেন্দ্রে (থানার সামনে) জনতা ইউনিটি টাওয়ার নামে দশ তলা ভবন নির্মাণে টাকা ও সম্পদ দিয়ে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে ভুক্তভোগীদের মাঝে। ব্যাংক ঋণের বোঝা ও ধার করা টাকা পরিশোধ করতে গিয়ে অনেকেই এখন সর্বশান্ত।
এ ব্যপারে লুৎফর রহমান মাস্টার, তোফাজ্জল হোসেন, ফিরোজ আলম, ফেরদৌসি বেগমসহ ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকরা জানান, ২০১০ সালের রামগঞ্জ থানা সংলগ্ন রতনপুর মৌজার বিভিন্ন দাগে স্থানীয় ১৩ জন ব্যবসায়ী ১০ তলা মাকের্ট ও ফ্লাট নির্মাণে ঢাকার গুলশানে জনতা ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজিস নামের একটি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী শামস রহমান মানিকের সঙ্গে পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে চুক্তিবদ্ধ হয়।
চুক্তি অনুযায়ী সাড়ে চার বছরে উক্ত মার্কেটের নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ফার্মের মালিক গত ৮ বছরে নানান তালবাহানায় তিন তলার নির্মাণ কাজ অসম্পূর্ণ রাখে।
৫৫/৬০জন বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষের কাছে শামস রহমান মানিক উচ্চ মূল্যে দোকান বিক্রি করেও দোকানগুলো বুঝিয়ে না দিয়ে গা-ঢাকা দিয়েছেন। এছাড়াও একই দোকান কয়েকজনের কাছে বিক্রি করে দেওয়ায় প্রকৃত মালিকরা দোকানগুলো দখলেও নিতে পারছেন না।
রোমান হোসেন পাটওয়ারী, আবদুল হান্নান, ফরহাদ আহমেদসহ ভূমি মালিকরা জানান, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গত কয়েক বছরে উক্ত প্রতিষ্ঠানের মালিককে আইনি নোটিশ দেওয়া হলেও তার পক্ষ থেকে আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যায়নি।
এছাড়াও চুক্তিমতে ভূমি মালিকদের প্রাপ্য অংশ বুঝিয়ে না দেওয়ায় চরম ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
বতর্মানে ভূমি মালিকরা জনতা ডেভেলপমেন্ট এন্ড টেকনোলজিসের নির্মাণাধীন তৃতীয় তলা পর্যন্ত অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করতে কত টাকা প্রয়োজন এ মর্মে (Archetype) নামে একটি প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানের কাছে হিসাব চাইলে উক্ত প্রতিষ্ঠান সার্ভে করে প্রায় এক কোটি সতের লাখ টাকা প্রয়োজন বলে হিসাব প্রদান করেন।
এ ব্যাপারে জনতা ডেভেলপমেন্ট এন্ড টেকনোলজিস নামের একটি কনস্ট্রাকশন ফার্মের স্বত্বাধিকারী শামস রহমান মানিক জানান, মালিকপক্ষের রিয়েল এস্টেট বিষয়ে ধারণা না থাকায় তারা অনেক কথাই বলতে পারে।
এছাড়া জমি মালিকদের জমি নিস্কন্টক নাই। প্রায় ৩ কোটি অতিরিক্ত খরচ করার কারণে ডিজাইন কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। ব্রোকারের মাধ্যমে দোকান বিক্রির কারণেও দুয়েকটা দোকান নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে।
