জইশ-ই মোহাম্মদের প্রতিষ্ঠাতা মাসুদ আজহারকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে চতুর্থবার ভেটো দিল চীন। যার কারণে এবারও তাকে বৈশ্বিক সন্ত্রাসী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
২০০৯ সালে মাসুদ আজহারকে জাতিসংঘ-স্বীকৃত সন্ত্রাসী তকমা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল ভারত। পরবর্তী সময়ে ২০১৬ সালে আরেকবার সে পদক্ষেপ নেয় দেশটি। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সকে নিয়ে প্রস্তাব দিয়েছিল তারা। ২০১৭ সালে এ তিন রাষ্ট্র নিরাপত্তা পরিষদে ফের একই ধরনের প্রস্তাব দেয়। প্রতিবার তাতে ভেটো দেয় চীন।
এবারও ভারতের পাশে ছিল আমেরিকা, ফ্রান্স, রাশিয়া, ব্রিটেনসহ বিভিন্ন রাষ্ট্র। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো চেষ্টাই সফল হয়নি।
চীনের বাধার মুখে নিরাপত্তা পরিষদে মার্কিন প্রতিনিধিরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা বলছেন, এভাবে চীন বারবার বাধা সৃষ্টি করলে মাসুদের বিষয়ে অন্য পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলায় আত্মঘাতী হামলায় দেশটির সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (সিআরপিএফ) ৪০ জনের বেশি সদস্য নিহত হওয়ার পর জইশ-ই-মোহাম্মদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ওঠে। ওই হামলার দায় স্বীকার করে পাকিস্তানভিত্তিক সংগঠনটি। হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে মাসুদ আজহারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার প্রস্তাব দেয় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্যের তিনটি।
ভারত-পাকিস্তান পরিস্থিতি নিয়ে চীনের বক্তব্য এমন, ‘এটা তাদের দুই দেশের ব্যাপার। আমরা আশা করি দুই পক্ষ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ভেতর দিয়ে সমাধান খুঁজবে।’
আর মাসুদের বিষয়ে ‘শেষ সমাধান’ খুঁজতে তারা আরও আলোচনা চায়।
‘এ ব্যাপারে আমরা বিস্তারিত ও গভীর ভাবে বিশ্লেষণ করছি। শেষ সমাধান খুঁজতে আরও সময় লাগবে।’
