ভেনেজুয়েলার ‘চোরাবালিতে’ রুশ অর্থ

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০১৯, ১১:০০ পিএম

২০১৫ সালের শেষের দিকে রাশিয়ার রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত তেল কোম্পানি রসনেফটের ব্যবস্থাপকরা তাদের শীর্ষ কর্তাদের কাছে ভেনেজুয়েলায় বিনিয়োগের বিষয়ে সতর্কবার্তা দেন। ওই ব্যবস্থাপকরা জানান, রসনেফটের কাছ থেকে লাখ লাখ ডলার বিনিয়োগ পেয়েছে ব্যবসায়িক সহযোগী ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ। কিন্তু তাতে দৃশ্যমান কোনো সুফল পায়নি রসনেফট।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে জানানো হয়, ২০১৫ সালের নভেম্বরে রসনেফটে কর্মরত নিরীক্ষক এক সহকর্মীর কাছে একটি ইমেইল পাঠান। এতে ভেনেজুয়েলায় বিনিয়োগের বিষয়ে তিনি লেখেন, ‘এটা অনন্তকাল ধরে চলার মতো।’ ওই ইমেইলে নিরীক্ষক অভিযোগ করেন, যৌথ মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে ৭০ কোটি ডলার বিনিয়োগ পাওয়া পিডিভিএসের কাছ থেকে লগ্নি করা অর্থের বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

রসনেফটের অভ্যন্তরীণ এমন ইমেইল, বিভিন্ন উপস্থাপনা, দাপ্তরিক চিঠির কপি, রসিদ ও স্প্রিডশিট হাতে এসেছে রয়টার্সের। এ নথিগুলোতে ২০১২ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ভেনেজুয়েলায় কোম্পানির কর্মকাণ্ডের বিষয়টি উঠে আসে। এই সময়ে আন্তর্জাতিক অন্য তেল কোম্পানিগুলো হয় দেশটি ছেড়ে চলে গিয়েছে অথবা বিনিয়োগ বন্ধ করে দিয়েছে। কোম্পানিগুলো সমাজতন্ত্রী সরকারের নীতি নিয়ে শঙ্কিত ছিল। তবে রসনেফট বিনিয়োগ বাড়িয়ে দেয়।

বিভিন্ন নথি অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলার প্রয়াত প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজ ও তার উত্তরসূরি নিকোলা মাদুরোর প্রতি রুশ সমর্থনের কারণেই রসনেফট পিডিভিএসএর পাশে দাঁড়ায়। বার্ষিক একাধিক প্রতিবেদন হিসাব করে রয়টার্স দেখেছে, রুশ কোম্পানিটি ২০১০ সাল থেকে ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন প্রকল্পে ৯০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে। কিন্তু ব্রেক ইভেনেই (লাভ-ক্ষতি সমান) যেতে পারেনি।

রসনেফটের নথিগুলোতে আরও গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় উঠে এসেছে। এগুলো থেকে জানা যায়, ভেনেজুয়েলার যৌথ মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে তেলের বিনিয়োগ থেকে রাশিয়ার সুফল প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম। রুশরা জেনেছেন, রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ ব্যবসার সহযোগী হিসেবে পাওয়া কোটি কোটি ডলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে কিছু ‘সামাজিক কর্মসূচিতে’ ব্যয় করেছে পিডিভিএসএ। সেসব অঞ্চলে মাত্র কয়েক শ লোক থাকতেন।

নথি থেকে আরও জানা যায়, রসনেফটের ব্যবস্থাপকরা বিভিন্ন সমস্যা কোম্পানির প্রধান নির্বাহী ইগোর সেকিনের নজরে আনেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সেকিন ইতিবাচক ফল পেতে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

২০১৫ সালের শেষের দিক থেকে রসনেফটের কিছু সমস্যা কমে আসে। এ সময় থেকে কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ওপর বড় পরিসরে নিয়ন্ত্রণে নেয়। কিন্তু এর পরও সংকটে থাকা একটি কোম্পানি ও দেশে বিনিয়োগ ছিল রসনেফটের।

রসনেফটের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ দুজন এবং ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন প্রকল্প সংশ্লিষ্ট আরও দুজন জানান, রাজনৈতিক কারণে রসনেফট তাদের বিনিয়োগ অব্যাহত রাখে। ভেনেজুয়েলায় রসনেফটের অংশীদার রাশিয়ার একটি তেল কোম্পানির এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ‘শুরু থেকেই এটি ছিল নিখাদ রাজনৈতিক প্রকল্প।’

মস্কোভিত্তিক কার্নেগি মস্কো সেন্টারের সিনিয়র ফেলো আলেকজান্ডার গাবুয়েভ বলেন, ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সম্পর্ককে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শক্তি প্রদর্শনের উপায় হিসেবে দেখে রাশিয়া।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত