ঠাকুরগাঁওয়ে আবারো একই পরিবারের ৩ জন অসুস্থ

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০১৯, ১১:৩৯ পিএম

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় আবারো একই পরিবারের ৩ জন অসুস্থ হয়েছে। জ্বর, বমি ও দুর্বলতা উপসর্গের সঙ্গে  তারা বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এলে তাদের ঠাকুরগাঁও আধুনিক হাসপাতালে ও পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয় বলে জানান বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার এবিএম মনিরুজ্জামান।

অসুস্থ তিনজনের বাড়ি ওই উপজেলার বড় পলাশবাড়ি ইউনিয়নের উজরমনি গ্রামে। অসুস্থরা হলেন, উজরমনি গ্রামের নাসিরুল ইসলামের স্ত্রী দুলালী বেগম (২৮), তার ছেলে সিয়াম (৮) ও মেয়ে নিতু (৪)। বর্তমানে অসুস্থ তিনজন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার এবিএম মনিরুজ্জামান  আরো বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে গৃহবধূ দুলালী বেগম, তার ছেলে সিয়াম ও মেয়ে নিতু হাসপাতালে আসেন। তারা তিনজনের শরীরে, জ্বর, মাথা ব্যথা, শরীরে দুর্বলতার লক্ষণ পাওয়া যায়। এ ছাড়া তারা বমিও করেছেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাদের ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

সদর হাসপাতালে তাদের ৩ জনের শরীর থেকে রক্ত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনজনকেই রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

অসুস্থ দুলালী বেগমের স্বামী নাসিরুল ইসলামের বলেন, বুধবার রাতে একজন প্রতিবেশী আমার স্ত্রীকে বড়ই (কুল) এনে দেয়। সেই বড়ইগুলো আমার স্ত্রী ও আমার দুই সন্তান খায়। সকাল থেকে তারা বমি করতে থাকে এবং জ্বর, মাথা ব্যথা ও শরীরে দুর্বলতা অনুভব করে। তাৎক্ষণিক ভাবে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

বড় পলাশবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বলেন, কিছুদিন আগেও পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নে নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে একই পরিবারের ৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল; এরপর থেকে মানুষজন আতঙ্কে রয়েছে। এখন আবার আমার ইউনিয়নের একই পরিবারের ৩জন অসুস্থ হয়েছে। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে এই রোগটি নির্ণয় করার দাবি জানাচ্ছি।

ঠাকুরগাঁওয়ের সিভিল সার্জন ডা. আবু মো. খয়রুল কবির বলেন, অসুস্থ ৩জনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আলাদাভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তারা কি কারণে অসুস্থ হয়েছে আমরা সে রোগটি নির্ণয় করার চেষ্টা করছি। এলাকার মানুষেরা আতঙ্কিত না হয়ে মাস্ক পরার পরামর্শ দেন তিনি।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে পর্যায়ক্রমে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ধনতলা ইউনিয়নের ভান্ডার দহ মরিচপাড়া গ্রামে আবু তাহের (৫৫), তার জামাতা হাবিবুর রহমান (৩৫), স্ত্রী হোসনে আরা (৪৫), দুই ছেলে ইউসুফ আলী (৩০) ও মেহেদী হাসানের (২৭) অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়।

এরপর সরেজমিনে ওই গ্রামে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) এর গবেষক দল তদন্ত এবং রোগের নমুনা পরীক্ষার পর ৩ মার্চ জানায় ‘নিপা ভাইরাসে’ আক্রান্ত হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত