ঝালকাঠি সদর উপজেলার নবগ্রাম এলাকার বাউকাঠি বিন্দুবাসিনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বরখাস্তের আদেশ উচ্চ আদালত স্থগিত করলেও ওই শিক্ষকের রুমে তালা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সভাপতির বিরুদ্ধে।
১৩ মার্চ (বুধবার) সকালে প্রধান শিক্ষক সৈয়দ দেলোয়ার হোসেনের বরখাস্তের আদেশ স্থগিত করে দেয়ার খবর পেয়ে তার কক্ষে তালা লাগান ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সোহরব হোসেন কারিগরসহ অন্য সদস্যরা।
এ ঘটনায় বিদ্যালয়ে উত্তোজনা বিরাজ করছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তারা জানান, এ দ্বন্দ্ব অচিরেই নিরসন না করলে বড় ধরনের সংঘর্ষ হতে পারে।
বিন্দুবাসিনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সৈয়দ দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘২০১৫ সালের মার্চ মাসে স্কুলে একটি এডহক কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটিতে সোহরাব হোসেনকে না রাখায় তিনি আমার উপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। পরবর্তীতে উনি এই স্কুলের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে আমাকে বরখাস্ত করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার সাসপেনশন অর্ডার হাইকোর্ট থেকে স্থগিতাদেশ দেয়া হলে সেটার আইনি সার্টিফিকেট কপি স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা এ আদেশ পাওয়ার পরেও আমাকে স্কুলে বসতে না দিয়ে উল্টো আমার রুমে তালা মেরে দেন।’
এ ঘটনায় স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সোহরব হোসেন ছাড়াও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুকুমার রুদ্র জড়িত আছেন।
‘হাইকোর্টের আদেশ পাবার পরেও আমাকে দায়িত্বে বুঝিয়ে না দেওয়া আদালত অবমাননার শামিল। আমি প্রশাসনের কাছে এর সুবিচার দাবি করছি। সন্ত্রাসীদের ভয়ে আমি স্কুলে যেতে পারছি না।’ বলেন ওই প্রধান শিক্ষক।
বিন্দুবাসিনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি সোহরাব হোসেনের কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে বলেন, “এ বিষয়টি ছাড়া আপনাদের কি কোনো কাজ নেই।” পরে তাকে শান্ত করা হলে তিনি বলেন, “অ্যাডভোকেট সার্টিফাইড কপি গ্রহণযোগ্য নয়, তাই তাকে (প্রধান শিক্ষক) বসতে দেওয়া হয়নি। আদালতের নির্দেশনার কপি পেলে রুমের তালা খুলে দিব।”
