কিশোরগঞ্জে ব্রহ্মপুত্র নদ এখন মরা খাল

আপডেট : ১৭ মার্চ ২০১৯, ১২:৩১ এএম

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে ব্রহ্মপুত্র নদ নাব্য হারিয়ে এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে এখানকার কৃষিকাজ ও জীববৈচিত্র্য। নদটি খননের দাবি দীর্ঘদিনের। কিন্তু এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষের কোনো উদ্যোগ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয়রা।

হোসেনপুর-গফরগাঁও সড়কের খুরশিদ মহল সেতু এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ব্রহ্মপুত্র নদের তলদেশে পলি জমে এককালের উত্তাল নদ ছন্দ হারিয়ে এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে। ক্রমেই বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে নদীর জীববৈচিত্র্যসহ মৎস্যসম্পদ ও নানা জলজ প্রাণী। ফলে হাজার হাজার জেলে পরিবার বেকারত্ব ঘোচাতে পেশা বদল করেছে। খেয়া পারের মাঝিরা বৈঠা ছেড়ে কলের নৌকা চালিয়েও শেষাবধি ছাড়তে হয়েছে বাপ-দাদার পেশা। জালের মতো ছড়িয়ে থাকা শাখা নদীগুলো এখন বিত্তবানদের ফসলি জমি।

খুরশিদ মহল গ্রামের বয়োবৃদ্ধ হারেছ মিয়া, কামরুল হাসানসহ অনেকেই আক্ষেপ করে বলেন, বিগত ৬০-৭০ বছরেও খনন না করায় ব্রহ্মপুত্র নদ স্মৃতির গহিনে হারিয়ে যাচ্ছে। নাব্য সংকটে নদ অববাহিকার কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে। নদের তলদেশে পানি না থাকায় সেচনির্ভর কৃষকরা পড়েছে মহাসংকটে। নদের দুপাড়ের বাসিন্দারা নদ খনন করে পানিপ্রবাহ বাড়ানোর দাবি জানান।

জনশ্রুতি রয়েছে, তৎকালীন বাংলার সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহ নৌবহর নিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদ হয়ে হোসেনপুর এলাকা দিয়ে যাতায়াত করতেন। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নৌবহর ব্রহ্মপুত্র নদ দিয়ে নিয়মিত টহল ও রসদ সরবরাহের নিরাপদ পথ হিসেবে ব্যবহার করতেন। হোসেনপুরে তারা নীলকুঠিও স্থাপন করেছিলেন। নাব্য সংকটে ব্রহ্মপুত্রের সেই ইতিহাস আজ কেবলই স্মৃতি।

নাব্য সংকটে হোসেনপুর, গফরগাঁও ও ময়মনসিংহ-জামালপুর দিয়ে প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্র নদের অস্তিত্ব এখন প্রায় বিলীন। পানির প্রবাহ না থাকায় নদের তলদেশে চলছে চাষাবাদ। এ সুযোগে বিভিন্ন প্রভাবশালী মহল অবৈধভাবে নদের বালু ও মাটি বিক্রি করছে। এতে হুমকির মুখে পড়ছে এলাকার বিভিন্ন স্থাপনা ও ফসলি জমি। শুকনা মৌসুমে বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল দখল নিতে প্রায়ই এলাকাবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ফলে ব্রহ্মপুত্রের খাসজমি ও বালু ব্যবসার আধিপত্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক অসন্তোষও বাড়ছে।

এদিকে ভাটিতে নদ ভরাট হওয়ায় উজানের দিকের খুরশিদ মহল এলাকায় বর্ষা মৌসুমে ভাঙন দেখা দেয়। গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, নদীভাঙন রোধে ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষা মৌসুমে নদীগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম, বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এদিকে নাব্য সংকটে নৌযান চলাচলেও সমস্যা হচ্ছে। এতে নদতীরবর্তী মানুষের যাতায়াত ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত