নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের উপকণ্ঠে লিনউড এলাকায় বন্দুকধারী যখন মসজিদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল, আবদুল আজিজ তখন লুকাননি। তিনি হাতের কাছে একটি ক্রেডিট কার্ড স্ক্যানিং মেশিন পেয়েছিলেন। তা নিয়েই তেড়ে গিয়ে হামলাকারীকে বললেন, ‘এদিকে আসো।’ তার এ দুঃসাহসের কারণে লিনউড মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করতে যাওয়া মুসল্লিদের ওপর সম্ভাব্য নির্বিচার হত্যা বন্ধ হয়েছে। এ কারণে নিউজিল্যান্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বীর বনে গেছেন ৪৮ বছর বয়সী এই আফগান শরণার্থী।
দ্য গার্ডিয়ানের খবরে জানানো হয়, আজিজ বাইরে আসার সময় মসজিদে তার চার সন্তানসহ অনেক লোক ছিল। তিনি মনে করেন, বন্দুকধারীর সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে তিনি যা করেছেন, তা অনেকেই করতে পারতেন।
ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে ব্রেন্টন হ্যারিসন ট্যারান্ট নামের ওই বন্দুকধারীর গুলিতে ৫০ জন নিহত হয়েছেন। বন্দুক হামলার এ ঘটনা ছিল নিউজিল্যান্ডের আধুনিক ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী। ওই বন্দুকধারী ক্রাইস্টচার্চের আল নুর মসজিদে কমপক্ষে ৪১ জনকে হত্যা করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। পরে সে গাড়ি চালিয়ে ৫ কিলোমিটার দূরে লিনউডের মসজিদ এলাকায় গিয়ে আরও সাতজনকে হত্যা করে। তার হামলার শিকার হয়ে হাসপাতালে আরেকজনের মৃত্যু হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজনের মৃত্যু হয়। অন্যদিকে গতকাল রবিবার নিউজিল্যান্ডের পুলিশের ঘোষণা অনুযায়ী, ৫০তম লাশের সন্ধান মিলেছে। হামলাকারী ব্রেন্টন ট্যারান্টকে (২৮) গতকাল শনিবার হত্যায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তাকে আরও কয়েকটি অপরাধে অভিযুক্ত করা হতে পারে।
লিনউড মসজিদের ভারপ্রাপ্ত ইমাম লতিফ আলাবি বলেন, আজিজ এগিয়ে না এলে নিহতের সংখ্যা অনেক বেশি হতে পারত। তিনি বলেন, গত শুক্রবার দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে মসজিদের বাইরে একটি শব্দ শুনে নামাজ বন্ধ করে দেন। পরে জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখেন, সেনাদের মতো পোশাক ও হেলমেট পরা এক লোক বড় বন্দুক নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তিনি শুরুতে ভেবেছিলেন, ওই ব্যক্তি পুলিশের কোনো কর্মকর্তা কি না। এরপর তিনি লাশ ও বন্দুকধারীকে গালিগালাজ করতে দেখলেন। আলাবি জানান, বন্দুকধারী জানালা দিয়ে গুলির পর একজন লুটিয়ে পড়লে আজিজ এগিয়ে যান। তিনি বন্দুকধারীকে নিরস্ত্র করতে সক্ষম হন। এ কারণে অনেকে বেঁচে যান। ভারপ্রাপ্ত ইমামের ভাষ্য, বন্দুকধারী কোনোভাবে মসজিদে ঢুকতে পারলে সবাইকে হয়তো মারা পড়তে হতো।
