সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার নরিনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফজলুল হক মন্ত্রীকে ৩০ মিনিট আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকার সাজা প্রদান করেছেন আদালত।
সোমবার দুপুরে শাহজাদপুর সিনিয়র সহকারী জজ (পারিবারিক) আদালতের বিচারক কিশোর দত্ত এ সাজা প্রদান করেন।
শাহজাদপুর সিনিয়র সহকারী জজ (পারিবারিক) আদালতের পেশকার প্রদ্যুত ধর জানান, ২০১৭ সালে শাহজাদপুর উপজেলার নরিনা ইউনিয়নের চর নরিনা গ্রামের লোকমান আকন্দর মেয়ে লাবণী খাতুন(২৫) বাদী হয়ে একই উপজেলার খাসসাতবাড়িয়া গ্রামের ছানোয়ার হোসেনের ছেলে ও লাবণীর স্বামী নূরুল ইসলাম শিপনের বিরুদ্ধে শাহজাদপুর সিনিয়র সহকারী জজ (পারিবারিক) আদালতে যৌতুক ও পারিবারিক ডিক্রি জারির ২টি মামলা দায়ের করেন।
এ মামলা চলা অবস্থায় আদালতকে অবমাননা করে শাহজাদপুর উপজেলার নরিনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফজলুল হক মন্ত্রী গ্রাম্য শালিশের মাধ্যমে আপোষ মিমাংসার নামে বাদী লাবণী খাতুনের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তার স্বাক্ষর নিয়ে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে আপস রফা করেন। ওই টাকাও তাকে বুঝিয়ে না দিয়ে চেয়ারম্যান ফজলুল হক নিজের কাছে রেখে দেন। আর বলেন, আদালত থেকে মামলা তুলে নেওয়ার পর তার কাছ থেকে টাকা নিয়ে যেতে।
এতে বাদী লাবণী খাতুন ক্ষুব্ধ হয়ে নরিনা ইউপি চেয়ারম্যান ফজলুল হক মন্ত্রীর এ আপস মীমাংসার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ওই একই আদালতে একটি লিখিত আবেদন করেন। শাহজাদপুর সিনিয়র সহকারী জজ (পারিবারিক) আদালতের বিচারক কিশোর দত্ত লিখিত আবেদনটি আমলে নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান ফজলুল হক মন্ত্রীকে আদালতে সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন।
সোমবার দুপুরে ইউপি চেয়ারম্যান ফজলুল হক মন্ত্রী আদালতে হাজির হয়ে এর জবাব প্রদান করলে এ আদালতের বিচারক আদালত অবমাননার দায়ে তাকে ৩০ মিনিট কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকার সাজা প্রদান করেন।
এ সাজা ভোগ শেষে তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবুল কাশেম মিয়ার মাধ্যমে লিখিত ভাবে তিনি নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করলে আদালত তাকে ক্ষমা করে মুক্তি প্রদান করেন। বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
