চট্টগ্রাম চেম্বার আয়োজিত মাসব্যাপী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার প্রায় অর্ধেক সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো জমেনি বেচাকেনা। নগরের পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত এ মেলায় দর্শনার্থী থাকলেও স্টল ও প্যাভিলিয়নগুলোতে কেনার লোক নেই। এ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন বিক্রেতারা। দেশে উৎপাদিত শিল্পপণ্যের বাজার সৃষ্টি এবং বহির্বিশ্বে বাংলাদেশি পণ্যের চাহিদা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিদেশি ক্রেতা আকৃষ্ট করা এ মেলার মূল লক্ষ্য।
গতকাল সোমবার দুপুরে মেলায় গিয়ে দেখা গেছে, ক্রেতাদের উপস্থিতি কম। পুরো মেলা প্রাঙ্গণ এখনো প্রায় ফাঁকা। উপজাতীয়দের তাঁতের তৈরি পোশাক ও বিদেশি স্টলগুলোতে হাতেগোনা অল্পসংখ্যক নারী ক্রেতা দেখা গেছে। দামদর করলেও নিচ্ছেন না তেমন কোনো পণ্য। এতে চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা স্টল বরাদ্দ নেওয়া উদ্যোক্তারা হতাশ। এদিকে মেলার অনেক স্টল ও প্যাভিলিয়নের নির্মাণকাজ এখনো শেষ হয়নি। মেলার বেশিরভাগ স্টল সাজানো হয়েছে গৃহস্থালি পণ্য, তৈরি পোশাক, প্রসাধনী ও জুয়েলারি দিয়ে। মানভেদে মেলায় পণ্য ক্রয়ের ওপর দেওয়া হচ্ছে ৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্য ছাড়। তবু হতাশ হয়ে অবসর সময় কাটাচ্ছেন বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, ৬ মার্চ থেকে মেলা শুরু হলেও তেমন ক্রেতা আসেননি। আশা করেছিলাম শুক্রবার এবং ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে ছুটির দিন হওয়ায় ক্রেতা সমাগম হবে। কিন্তু বন্ধের দিনও মেলা জমেনি।
মেলায় প্রদর্শিত পণ্যের মধ্যে মেশিনারিজ, কার্পেট, কসমেটিক্স, ইলেক্ট্রনিক্স, চামড়া ও পাটজাত পণ্য, খেলনা, স্টেশনারি, ঘড়ি, জুয়েলারি, সিরামিক, দেশি-বিদেশি বস্ত্র, কেব্ল, মেলামাইন, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ফাস্টফুড, আসবাবপত্র ও হস্তশিল্প অন্যতম।
চেম্বার আয়োজিত বাণিজ্যমেলার ২৭তম আসরে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের উদ্যোক্তাদের ৪৫০টির বেশি প্যাভিলিয়ন ও স্টল থাকছে। মেলায় এসেছে থাইল্যান্ড, ভারত, ইরান ও কোরিয়ার পণ্য। প্রতিবারের মতো এবারও পার্টনার কান্ট্রি হিসেবে রয়েছে থাইল্যান্ড। বিদেশিদের জন্য প্রায় ২৮ হাজার বর্গফুট জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। চার লাখ বর্গফুট জায়গাজুড়ে অনুষ্ঠিত মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলছে।
