কন্টেইনার স্ক্যানার বসছে তিন মাসের মধ্যে

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০১৯, ১১:৪৫ পিএম

যথাসময়ে রপ্তানিপণ্য জাহাজিকরণের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে দুটি কন্টেইনার স্ক্যানার কিনছে কাস্টমস কর্র্তৃপক্ষ। আগামী তিন মাসের মধ্যে স্ক্যানার দুটি বন্দরে স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে জড়িত ব্যবসায়ীরা বলছেন, বন্দরে স্ক্যানার সংকটের কারণে অনেক পণ্য সময়মতো জাহাজিকরণ করা যাচ্ছে না। নতুন দুটি স্ক্যানার এলে ব্যবসায়ীরা ভোগান্তি থেকে কিছুটা হলেও পরিত্রাণ পাবেন।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কমিশনার কাজী মোস্তাফিজুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রতিটি স্ক্যানার ৪৫ কোটি টাকা করে ৯০ কোটি টাকায় ক্রয় করা হচ্ছে। এরই মধ্যে দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। অর্থ বরাদ্দের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন। আশা করছি আগামী তিন মাসের মধ্যে চীন থেকে স্ক্যানার দুটি চলে আসবে।’ এছাড়া দ্রুততম সময়ের মধ্যে আরও কিছু যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করা হবে বলে জানান তিনি। এ কর্মকর্তা বলেন, নতুন স্ক্যানারগুলো আসার পর চট্টগ্রাম বন্দরে স্ক্যানার সংকট অনেকটা কেটে যাবে। একই সঙ্গে বন্দরের নিরাপত্তা ও সরকারের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। দেশে সমুদ্রপথে আমদানি-রপ্তানির ৯২ শতাংশ চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর দিয়ে পরিচালিত হয়ে থাকে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বন্দরে মোট কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ ছিল ২৭ লাখ টিইইউস (২০ ফুট দৈর্ঘ্যরে কন্টেইনার)। মোট ১২টি গেট দিয়ে এসব কন্টেইনার বন্দরে আনা-নেওয়া হলেও বর্তমানে সেখানে মোবাইল স্ক্যানারসহ মোট পাঁচটি স্ক্যানার রয়েছে। এর মধ্যে বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, চোরাচালান প্রতিরোধ ও বৈশ্বিক নীতিমালার বাধ্যবাধকতার কারণে চিটাগং পোর্ট ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন (সিপিটিএফ) প্রকল্পের আওতায় ২০০৯ সালে চারটি কন্টেইনার স্ক্যানিং মেশিন স্থাপন করে কাস্টমস। এসব স্ক্যানারের মেয়াদও এরই মধ্যে শেষ হয়ে গেছে। পরে আরেকটি মোবাইল স্ক্যানার সংগ্রহ করা হয়। বিদ্যমান স্ক্যানারগুলোর মধ্যে একটি অচল দীর্ঘদিন ধরে। বাকি তিনটি কন্টেইনার স্ক্যানার দিয়ে বন্দরের তিনটি গেটে স্ক্যানিং করা হচ্ছে। মোবাইল স্ক্যানারটি কন্টেইনারের কাছে গিয়ে স্ক্যান করতে পারে।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ১০ বছর আগে যখন চারটি স্ক্যানিং মেশিন স্থাপন করা হয় তখন চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ ছিল বছরে ১০ লাখ টিইইউস। গত ১০ বছরে বন্দরে কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ প্রায় তিনগুণ বাড়লেও বাড়েনি স্ক্যানিং মেশিনের সংখ্যা। এতে রপ্তানিপণ্য জাহাজিকরণ ও আমদানি পণ্য সরবরাহে ভোগান্তি পোহাতে হয় তাদের। আর স্ক্যানার স্বল্পতার কারণে একদিকে বন্দরের নিরাপত্তা ঝুঁকি যেমন বাড়ছে অন্যদিকে বৃদ্ধি পাচ্ছে ব্যবসা পরিচালনা ব্যয়।

চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কন্টেইনার স্ক্যানারের সংকটে বন্দরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের গতিশীলতা ব্যাহত হচ্ছে। ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। অনেক সময় রপ্তানিপণ্য যথাসময়ে শিপমেন্ট করা যাচ্ছে না।’ দুটি স্ক্যানার স্থাপন প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল উল্লেখ করে তিনি বন্দরের সব গেটে স্ক্যানার বসানোর দাবি করেন। বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপোস অ্যাসোসিয়েশনের (বিকডা) সচিব রুহুল আমিন সিকদার বিপ্লব বলেন, ‘যে স্ক্যানারগুলো বর্তমানে আছে সেগুলোর মেয়াদ শেষ। এ অবস্থায় মাত্র দুটি নতুন স্ক্যানার দিয়ে আমদানি-রপ্তানির চাপ কতটা সামাল দেওয়া যাবে তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত