দেশের সেবা করার লক্ষ্যে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে চেয়েছিলেন আবরার। কিন্তু গত মঙ্গলবার রাজধানীর প্রগতি সরণিতে বাসচাপায় প্রাণ হারালেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) এই শিক্ষার্থী। তার সহপাঠী আবদুল কাদের খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সম্প্রতি বাংলাদেশ আর্মিতে কমিশনার পদে চাকরির জন্য প্রিলিমিনারি পরীক্ষা দিয়েছিল আবরার। ওই পরীক্ষার রেজাল্ট এখনো হয়নি।’
সহপাঠীরা জানান, চলতি বছরই বিইউপির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন সদা হাস্যোজ্জ্বল ও বিনয়ী আবরার। তার প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু হয় গত ৬ জানুয়ারি। প্রতিদিন প্রগতি সরণির বসুন্ধরা গেট থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বাসে ক্লাসে যেতেন তিনি। তারা আরও জানান, আবরার ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। সৃজনশীল কার্যক্রমেও যুক্ত ছিলেন তিনি। গত মাসে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় কুইজ প্রতিযোগিতায় তিনি প্রথম স্থান অধিকার করেন।
বিইউপির শিক্ষার্থী মুনিম বলেন, ‘প্রতিদিন সকাল ৭টার মধ্যে প্রগতি সরণির বসুন্ধরা গেটের ঠিক বিপরীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসের জন্য অপেক্ষা করত আবরার। গত মঙ্গলবারও যথাসময়ে ৭টা ২০ মিনিটে বাসটি সেখানে পৌঁছায়। এ সময় রাস্তার বিপরীত লেনের পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় আবরারকে পড়ে থাকতে দেখে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘তার শরীরে কোনো আঘাত ছিল না। বাসের চাকা মাথার ওপর দিয়ে যাওয়ায় থেঁতলে রাস্তায় মগজ ছিটকে পড়ে।’
সহপাঠীরা জানান, রাস্তা পার হওয়ার সময় সুপ্রভাত নামের দুটি বাসের অসম প্রতিযোগিতার মাঝে পড়ে প্রাণ দেন আবরার। তার মৃত্যুর পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনে নামেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
