ছেঁউড়িয়ায় তিন দিনের লালন স্মরণোৎসব চলছে

আপডেট : ২১ মার্চ ২০১৯, ০৯:১০ এএম

কুষ্টিয়া কুমারখালীর ছেঁউড়িয়া লালন আখড়াবাড়িতে ৩দিনব্যাপী দোল পূর্ণিমা স্মরণোৎসব আনুষ্ঠানিভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার রাত সাড়ে ১০টায় লালন মুক্তমঞ্চে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেনের সভাপতিত্বে এ আয়োজনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী।

উদ্বোধনকালে তিনি বলেন, “এই মার্চ মাসের ৭ তারিখে বঙ্গবন্ধু যে ডাক দিয়েছিলেন সেই ডাকে সাড়া দিয়ে আমরা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ি। আমরা পাকিস্তানের কোনো আদেশ মানিনি। বঙ্গবন্ধু ৩২ নম্বর থেকে যে আদেশ দিয়েছে সেটা মেনেছি।”

তিনি আরও বলেন, “লালনের সঙ্গে মানুষের একটা আত্মার সর্ম্পক রয়েছে। লালন শাহ অসাম্প্রদায়িক আধ্যাত্মিক বাণী ধারণ করে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে আমরাও আরেকটা উদাহরণ সৃষ্টি করতে পারি। মানুষের প্রতি ভালোবাসা দেখাতে হবে, পশুপাখি, গাছপালা, প্রকৃতিকে আমাদের ভালোবাসতে হবে। তবেই লালন স্মরণোৎসব পালন স্বার্থক হবে।”

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, “বাউল সম্রাট লালন শাহ্ ছিলেন মানব মুক্তির এক মহান সাধক। তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও তিনি দেশ ও সমাজ সংস্কারে যে বাণী রেখে গেছেন সেগুলো আমাদের মুগ্ধ করে।

মানুষ ভজে কিভাবে সোনার মানুষ, ভালো মানুষ হওয়া যায় সে কথা বলেছেন। লালনের দর্শন মানুষের মনে ধারণ করে অস্তির সমাজের স্বস্তি ফেরানো সম্ভব। দেশ থেকে সন্ত্রাস, দুর্নীতি দূর করার জন্য লালনের দর্শন সমধিক প্রাসঙ্গিক আজও।

এবারের আয়োজনে মরমী সাধক বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁইজির অমর বাণী “মনের গরল যাবে যখন, সুধাময় সব দেখবি তখন” প্রতিপাদ্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় লালন একাডেমি ও কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের আয়োজনে তিন দিনের লালন স্মরণোৎসব।

মূল মঞ্চে আলোচনা সভা শেষে শুরু হয় বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহ্ এর আধ্যাত্মিক গানের আসর। যেখানে দেশ বরেণ্য লালন শিল্পী ও লালন একাডেমির শিল্পীরা লালন সংগীত পরিবেশন করেন।

আগামী শুক্রবার পর্যন্ত চলবে এ লালন স্মরণোৎসব। সেই সঙ্গে প্রতিদিন আলোচনা শেষে গভীর রাতে লালন মুক্তমঞ্চে লালন সংগীত পরিবেশনা এবং সেই সঙ্গে কালীগঙ্গার মাঠজুড়ে বসেছে উৎসবমুখর গ্রামীণ মেলা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত