শিশু জন্মের জন্য তরুণীদের চীনে পাচার

আপডেট : ২২ মার্চ ২০১৯, ০৯:৪৩ পিএম

সেং মুনকে তার বোনের স্বামী চীনে চাকরি দেওয়ার কথা বলে মিয়ানমার থেকে পাচার করে দিয়েছিল। পাচারের সময় তাকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে নেওয়া হয়। যখন সেংয়ের ঘুম ভাঙে, তখন নিজের হাত বাঁধা অবস্থায় একটি চীনা পরিবারে নিজেকে আবিষ্কার করে সে। কয়েক মাস পর তার বোনের স্বামী ফিরে আসেন এবং তাকে এক চীনা পুরুষকে বিয়ে করতে হবে বলে জানান। ওই ঘটনার দুই মাসের মাথায় এক চীনা পুরুষের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। ওই পুরুষ তাকে ঘরের মধ্যে বন্দি করে রাখত এবং যৌন নির্যাতন চালাত। চীনা ওই পরিবারটির পক্ষ থেকে তাকে বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে বলা হয়। এমন নির্যাতনের মাঝেই অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে সেং। এক পর্যায়ে সেং একটি ছেলেসন্তানের জন্ম দেন।

সন্তান জন্মের পর সেং তার দেশে ফিরে যেতে চাইলে তাকে সন্তান রেখে চলে যেতে বলা হয়। সেংয়ের মতো এমন বহু তরুণীর ভাগ্যে একই ঘটনা ঘটেছে এবং এখনো ঘটছে। সম্প্রতি হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এক রিপোর্টে দেখা যায়, মিয়ানমারের কোচির রাজ্য থেকে এমন অনেক তরুণীকে পাচার করে দেওয়া হয়েছে। চীনের অনেক স্থানে আশঙ্কাজনক হারে নারীদের সংখ্যা কমে যাওয়ায় পাশর্^বর্তী দেশগুলো থেকে নারী পাচার করে এনে বিয়ে করা ও সন্তান জন্ম দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে।

রিপোর্ট অনুসারে চীনা পরিবারগুলো একজন তরুণীর বিনিময়ে পাচারকারীদের তিন থেকে ১৩ হাজার ডলার পর্যন্ত দেয়। গত কয়েক দশক ধরে চীনা ওই পরিবারগুলো শুধু সন্তান জন্ম দেওয়ার ব্যাপারকেই মুখ্য হিসেবে ধরছে। ফলে পাচারের শিকার তরুণীদের ওপর অকথ্য যৌন নির্যাতন চালাতেও পিছপা হচ্ছে না পরিবারগুলো।

যুদ্ধবিধ্বস্ত এবং রাজনৈতিক সহিংসতাপ্রবণ দেশগুলো থেকে ওই তরুণীদের সংগ্রহ করা হয় বেশি। মিয়ানমারের রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নেয় বেশি পাচারকারীরা। সবাই সেংয়ের মতো পালিয়ে যেতে পারে না। অনেকে পালাতে পারলেও তাকে রেখে আসতে হয় তার সন্তানকে। দেশে ফিরলেও তাদের আর সামাজিকভাবে আগের মর্যাদা থাকে না। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ফিরে যাওয়া ওই তরুণীদের আশ্রয় হয় কোনো সরকারি কেন্দ্রে।

এর আগেও ভিয়েনাম, কম্বোডিয়া, লাওস এবং মালয়েশিয়া থেকে অনেক তরুণীকে চীনের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পাচারের ঘটনা বিশ^বাসীর সামনে এনেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। সূত্র : সিএনএন

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত