ক্রাইস্টচার্চ মসজিদ হামলা: ৮ দিন পর জ্ঞান ফিরল লিপির

আপডেট : ২৩ মার্চ ২০১৯, ০৫:১২ পিএম

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলায় বন্দুকধারী উগ্রবাদীর গুলিতে গুরুতর আহত হওয়া কিশোরগঞ্জের তরুণী সাজেদা আক্তার লিপির শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে।

ঘটনার ৮দিন পর শনিবার নিউজিল্যান্ড সময় রাত আড়াইটায় তার জ্ঞান ফিরেছে। লিপির শ্বশুর হাজী জালাল উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিউজিল্যান্ডে থাকা সাজেদা আক্তার লিপির দেবর খোকন মিয়ার বরাত দিয়ে হাজী জালাল উদ্দিন জানান, জ্ঞান ফেরার পর লিপি চোখ মেলে তাকিয়েছিলেন।

হামলার দিন ১৫ মার্চ থেকে লিপি ক্রাইস্টচার্চ হাসপাতালের আইসিইউতে মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিলেন লিপি। তিনি এখনো আশঙ্কামুক্ত নন উল্লেখ করে হাসপাতালের চিকিৎসকেরা আশা প্রকাশ করে বলেছেন, লিপি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠবেন।

সেন্ট্রাল ক্রাইস্টচার্চের মসজিদ আল নূর থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরত্বে বসবাস করেন বাংলাদেশি দম্পতি মাসুদ ও লিপি। মাসুদ মিয়া বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের দক্ষিণ অষ্টঘড়িয়া গ্রামের হাজী জালাল উদ্দিনের ছেলে। অন্যদিকে, লিপি পার্শ্ববর্তী একই জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলার কোদালিয়া গ্রামের গোলাপ মিয়ার মেয়ে।

গত (১৫ মার্চ) শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় করতে স্বামী মাসুদ মিয়ার সঙ্গে গাড়িতে করে ক্রাইস্টচার্চের মসজিদ আল নূরে গিয়েছিলেন সাজেদা আক্তার লিপি। মসজিদের সামনে লিপিকে গাড়ি থেকে নামিয়ে গাড়িটি ঠিকভাবে পার্ক করতে যান মাসুদ। ঠিক এই সময়টিতেই ঘটে বন্দুক হামলার ঘটনা। ভাগ্যক্রমে মাসুদ মিয়া নিরাপদ দূরত্বে চলে যেতে পারলেও, কোন সুযোগ পাননি লিপি। দৌড়ে আত্মরক্ষা করতে গিয়েও পারেননি। বন্দুকধারী উগ্রবাদীর দুটি বুলেটের একটি বুকে লাগে ও পিঠে লাগা আরেকটি বুলেটে এফোঁড় ওফোঁড় করে গেলে লিপি লুটিয়ে পড়েন মসজিদের ফ্লোরে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে ক্রাইস্টচার্চ হাসপাতালের ভর্তি করা হয়। বন্দুক হামলায় আহতদের মধ্যে সবচেয়ে সংকটজনক অবস্থায় ক্রাইস্টচার্চ হাসপাতালের আইসিইউতে মুমূর্ষু অবস্থায় গত আট দিন ধরে চিকিৎসাধীন আছেন বাংলাদেশি এই তরুণী।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত