চসিকের নতুন রাস্তা কেটে ওয়াসার পাইপলাইন

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০১৯, ০১:১১ এএম

গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে চট্টগ্রাম নগরীর শুলকবহর ওয়ার্ডের আবদুল্লাহ খান রোডের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ কাজ শেষ করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। চলতি মার্চ মাসের প্রথম দিকে চট্টগ্রাম ওয়াসা সেই সড়ক কেটে পাইপলাইন বসানোর কাজ শুরু করে। এমন সমন্বয়হীনতায় চলছে নগরের উন্নয়ন কাজ।

এদিকে কাজের শৃঙ্খলায় গঠিত নগর উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির প্রধান মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা মেনে চলছে না সংশ্লিষ্ট কোনো সংস্থা। চট্টগ্রাম ওয়াসা, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষ (সিডিএ), কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (কেজিডিসি), বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) যে যার মতো কাজ করে যাচ্ছে। এক বছরের আগাম পরিকল্পনা সিটি করপোরেশনে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও সেবা সংস্থাগুলো গত আট মাসেও তা দেয়নি। ফলে যখন-তখন যত্রতত্র রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি ও পাইপলাইন স্থাপনের কারণে জনদুর্ভোগ কেবলই বাড়ছে।

শুলকবহর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রনি আহমেদ বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর এই সড়কের কাজ শেষ হয়েছে। বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা না হওয়ার জন্য সড়কটি উঁচু করে পিচঢালাই করা হয়েছে। কিন্তু সপ্তাহ-দশ দিন যেতে না যেতেই নতুন এই রাস্তার একপাশ কেটে পাইপলাইন বসাচ্ছে ওয়াসা। তারা পিচঢালাই করা রাস্তা কেটে মাটি দিয়ে ভরাট করে চলে গেছে।’ তার প্রশ্ন, এতদিন সড়কে কাজ করে কী লাভ হলো?

শুধু এটিই নয়, নগরীর চকবাজার, বাদুড়তলা, বহদ্দারহাট, চান্দগাঁও, পাঁচলাইশ, ষোলোশহর, বাগমনিরাম ওয়ার্ডসহ নগরের বিভিন্ন এলাকায় পানি ও গ্যাসের পাইপ, টিঅ্যান্ডটির কেবল, পিডিবির বৈদ্যুতিক খুঁটি বসানোর জন্য রাস্তা কাটায় ভোগান্তির অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। সেবা সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতার কারণে দুর্ভোগ ক্রমশ বাড়ছে।  

এই নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে চসিকের পাঁচলাইশ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কফিল উদ্দিন খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হাজিপাড়া সড়কের আশেকানে আউলিয়া কলেজ থেকে বানিয়ারপুল পর্যন্ত কয়েক ধাপে তিন কোটি টাকারও বেশি উন্নয়নকাজ করা হয়েছে। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার তিন মাস যেতে না যেতেই সড়কটি কেটে শেষ করে দিয়েছে ওয়াসা। যা আমাদের কলিজা কাটার মতো হয়েছে। সবচেয়ে দুঃখজনক, ওয়াসা যে এই নতুন সড়কটি কাটবে, তা একটু অবহিত করলেও তো পারত।’

একইভাবে দুই কোটি টাকা ব্যয়ে সাদ উল্লাহ খাঁ সড়ক কেটে ফেলা হয় জানিয়ে এ কাউন্সিলর বলেন, ‘রাস্তা কেটে পাইপ বসিয়ে ওপরে কিছু কিছু মাটি দিয়ে চলে গেছে ওয়াসা। আবার কয়েকটি স্থানে মাটিও দেয়নি। সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করা হলে নগরবাসীকে দুর্ভোগ পোহাতে হতো না।’

চট্টগ্রামের পাঁচ সেবা সংস্থার প্রধানদের কাছে গত বছরের ১৭ জুলাই এক বছরের সময়ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা জানতে চেয়ে চিঠি পাঠায় নগর উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির (সিডিসিসি) প্রধান ও চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। চট্টগ্রাম ওয়াসা আংশিক কর্মপরিকল্পনা জমা দিলেও অন্যরা দেয়নি। এই বিষয়ে চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নগরের কোথায়, কখন সেবাসংস্থাগুলো কী কাজ করবে তা জানাতে হবে। নইলে একদিকে উন্নয়নকাজ করে এলে, আরেকদিকে কেটে দেবে। এতে আর্থিকভাবে যেমন অপচয় হচ্ছে, তেমনি নগরবাসীকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। শিগগির কমিটির সভা ডাকা হবে।’ 

মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, ‘বারবার বলার পরও সেবা সংস্থাগুলোর বছরভিত্তিক পরিকল্পনা জমা না দেওয়া দুঃখজনক। সবাই তো সরকারের অংশ। যারা কর্মপরিকল্পনা দিচ্ছে না, তারা সরকারকে সহযোগিতা করছে না।’ তিনি বলেন, ‘সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করা হলে আগামীতে চট্টগ্রামের চেহারা বদলে যাবে। নগরবাসীকে আর দুর্ভোগ পোহাতে হবে না।’

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. গোলাম হোসাইন বলেন, ‘যতটুকু সম্ভব সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হয়। সমন্বয়ের বিষয়টি দ্বিপক্ষীয়। ওয়াসার বছরভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা চসিককে দেওয়া আছে। যদিও কিছু স্থানে প্রয়োজনে পরিবর্তন করা হয়ে থাকে।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত